বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধুমাত্র একাডেমিক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে, যেখানে ভালো রেজাল্টের পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং যোগাযোগ সক্ষমতা একজন শিক্ষার্থীকে আলাদা করে তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এমন একটি সময়, যেখানে একজন শিক্ষার্থী নিজের আগ্রহ আবিষ্কার করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন কেন জরুরি বর্তমান চাকরির বাজারে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বাস্তব দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যোগাযোগ দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং ডিজিটাল টুল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এখন নিয়োগকারীদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই যদি শিক্ষার্থীরা এসব দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে চাকরির প্রস্তুতি অনেক সহজ হয়ে যায় এবং আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়। ক্লাসরুমের বাইরের শেখার জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমের বাইরেও শেখার অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে। যেমন: ডিবেট বা রিসার্চ ক্লাবে যুক্ত হলে বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়ে।
স্পোর্টস বা কালচারাল কার্যক্রম নেতৃত্ব ও দলগত কাজ শেখায়। স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করে। ছোট কাজ, বড় শেখা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলোই ভবিষ্যতে বড় শেখায় রূপ নেয়। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ক্যাম্পাস প্রজেক্ট, সেমিনার আয়োজন কিংবা ফিল্ডওয়ার্কের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান শেখে। এসব কাজের মাধ্যমে ভুল করার সুযোগ থাকে, যা থেকে শেখা যায় এবং ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। ডিজিটাল স্কিলের গুরুত্ব ডিজিটাল যুগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিম্নোক্ত স্কিলগুলো ভবিষ্যতে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে: ডাটা অ্যানালাইসিস ও প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার ব্যবহার। কনটেন্ট রাইটিং ও গ্রাফিক ডিজাইন। অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে নতুন স্কিল শেখা। সিভিতে এক্সট্রা-কারিকুলামের প্রভাব একটি শক্তিশালী সিভি তৈরিতে এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং বিভিন্ন প্রজেক্টে অংশগ্রহণ একজন শিক্ষার্থীর বাস্তব দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ দেয়। নিয়োগকর্তারা সাধারণত এমন প্রার্থীদের বেশি গুরুত্ব দেন যারা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
সবশেষে বলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হলো নিজের ভবিষ্যৎ নিজ হাতে গড়ে তোলার সময়। শুধু ভালো ফলাফল নয়, বরং দক্ষতা অর্জন, সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা এবং ডিজিটাল সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে আত্মবিশ্বাসী ও বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সমন্বিত প্রস্তুতিই ভবিষ্যতের সাফল্যের চাবিকাঠি। লেখক: নাদিরা তাবাসসুমনৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়