ফয়সল আবদুল্লাহ
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চীনের শিল্পোন্নতির মাপকাঠি ছিল কারখানার সংখ্যা ও কনটেইনার ভর্তি রপ্তানি পণ্য। স্কেল তথা উৎপাদনের পরিমাণই ছিল অর্থনৈতিক সক্ষমতার মানদণ্ড ও সাফল্যের সূচক। সেই যুগ সরে যাচ্ছে নিরবে। এখন শিল্পশক্তির সংজ্ঞা দিচ্ছে ‘ক্যাপাবিলিটি’। এই ‘সক্ষমতা’ শুধু কতটা উৎপাদন করা হলো তা নয়, বরং কীভাবে, কতটা বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে করা হলো সেটাকেই ইঙ্গিত করে।
আধুনিক চীনা কারখানা এখন কেবল উৎপাদনযন্ত্র নয়; সেগুলো হয়ে উঠছে উদ্ভাবনের ইঞ্জিন—যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও মানুষের অকৃত্রিম মেধা কাজ করছে একসঙ্গে।
ইনভেস্টিং ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে রেটিংডগ ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেসিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০.৩ পয়েন্টে। ডিসেম্বরে ছিল ৫০.১। এটি টানা দ্বিতীয় মাস সম্প্রসারণ–সংকোচন সীমার ওপরে এবং তিন মাসের মধ্যে দ্রুততম প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত।
নতুন অর্ডার ও রপ্তানি টানা অষ্টম মাস বাড়ছে। তিন মাস পর কর্মসংস্থানও বেড়েছে। একই সঙ্গে ইনভেন্টরি কমে আসা দেখাচ্ছে—উৎপাদন এখন বড় নয়, স্মার্টও হচ্ছে।
পিএমআই চিত্রই স্পষ্ট করে কেন চীন তার শিল্পকৌশলকে ভলিউম থেকে ক্যাপাবিলিটিতে ঘুরিয়ে নিচ্ছে।
সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০২৬–২০৩০) উৎপাদন খাতে যুক্তিসংগত অংশ বজায় রাখার পাশাপাশি অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং-নির্ভর আধুনিক শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংও বারবার জোর দিয়েছেন—উৎপাদন খাতের ভিত্তি ধরে রেখে উন্নত শিল্পখাতকে শক্তিশালী করাই আধুনিকায়নের পথ। এখানে তার বার্তাটি পরিষ্কার—শুধু উৎপাদনের পরিসর চীনকে সামনে নিয়ে যাবে না। কারখানাকে হতে হবে উদ্ভাবনী, সমন্বিত ও বৈশ্বিক পরিবর্তনশীল চাহিদা বোঝার মতো সক্ষম।
অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং এখন চীনের শিল্পব্যবস্থারও কাঠামোগত মেরুদণ্ড। সেন্টার ফর ইকোনমিক পলিসি রিসার্চ জানাচ্ছে, চীনের শিল্পউৎপাদনের পরিমাণ পরবর্তী ৯টি বড় উৎপাদন অর্থনীতির দেশের সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক ধাক্কা সত্ত্বেও চীনের অর্থনীতি যে স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে, তার পেছনে রয়েছে কাঠামোগত গভীরতা ও দূরদর্শী নীতি।
ওইসিডির গবেষণা বলছে, উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদি শিল্প প্রতিযোগিতার মূল চালিকাশক্তি।
ম্যাককিনসির গবেষণাও বলছে, অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে বিনিয়োগ চীনা কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনের উচ্চতর ধাপে তুলছে, বাড়াচ্ছে লাভজনকতা ও প্রতিযোগিতা। এমনকি ইউরোপীয় কমিশনের জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারও জানাচ্ছে, আজকের প্রতিযোগিতার মূল চাবিকাঠি প্রযুক্তিগত সমন্বয়।
বিশ্বব্যাংকের মতে, সক্ষমতা-নির্ভর শিল্পকৌশলে বিনিয়োগকারী অর্থনীতিগুলো পণ্যমূল্যের ওঠানামা ও ভূরাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সর্বোপরি, চীনের কারখানাগুলো এখন স্থিতিশীল হচ্ছে, উদ্ভাবন করছে, রূপান্তরিত হচ্ছে। বাড়তে থাকা অর্ডার, কর্মসংস্থান ও কম ইনভেন্টরি বলছে, চীনের চলার গতিটা সঠিক দিকেই আছে।
তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন, সিএমজি
সক্ষমতাই এখন চীনের শিল্পভিত্তির মেরুদণ্ড
Connect With Us:
Advertisement
Our Editorial Standards
We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.
Fact-Checked
This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.
Expert Review
Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.
Regularly Updated
We regularly update our content to ensure it remains current.
Unbiased Coverage
We strive to present balanced information.