Saturday, June 6, 2026
Live

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পেলেন জবি'র তিলোত্তমা রায়

কে এই তিলোত্তমা রায়?

মাহফুজ রহমান
মাহফুজ রহমান ডেস্ক সম্পাদক
Published: Updated:
যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পেলেন জবি'র তিলোত্তমা রায়
যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পেলেন জবি'র তিলোত্তমা রায়

চাকরি, পড়াশোনা আর গবেষণা — একসঙ্গে তিনটি চাপ সামলে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি স্কলারশিপ অর্জন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী তিলোত্তমা রায়।

কে এই তিলোত্তমা রায়?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী স্নাতকে ৩.৯৪ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৮৩ সিজিপিএ অর্জন করেন। পাশাপাশি আইইএলটিএস-এ পান ৬.৫ স্কোর। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এই ফুল-ফান্ডেড PHD অফার তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি।

যেভাবে এলো এই সাফল্য

সাফল্যের পথটা মোটেই মসৃণ ছিল না। মাস্টার্স করার সময় একদিকে ক্লাস-পরীক্ষা-থিসিস, অন্যদিকে পেশাগত জীবনের চাপ — দুটো একসঙ্গে সামলেছেন তিনি। প্রথমে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অফিসার মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) থিসিস গবেষণা চালিয়ে গেছেন।

২০২৪ সালে প্রথমবার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন তিলোত্তমা। একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আংশিক অর্থায়নের অফার এলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। হাল না ছেড়ে আরও পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিয়ে দ্বিতীয়বার আবেদন করেন এবং এবার অর্জন করেন কাঙ্ক্ষিত ফুল-ফান্ডেড অফার।

তিলোত্তমা জানান, শুধু ভালো ফলাফল নয় — গবেষণা অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি একসঙ্গে এতগুলো দায়িত্ব সামলানোর বিষয়টিকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছে।

গবেষণায়ও এগিয়ে চলেছেন তিনি

শুধু স্কলারশিপ নয়, গবেষণাতেও ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন তিলোত্তমা। তার একটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, আরেকটি প্রকাশের অপেক্ষায়। নিউমোনিয়ার সম্ভাব্য ওরাল ভ্যাকসিন নিয়ে তার গবেষণা ভাবনা ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের আগ্রহ আকৃষ্ট করেছে।

সমালোচনাকে অনুপ্রেরণায় বদলে দেওয়া

'অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কতদূর এগোনো সম্ভব' — বলেন তিলোত্তমা। সেই সমালোচনাকেই তিনি অনুপ্রেরণায় পরিণত করেছেন। তার স্বপ্ন কেবল বিদেশে পড়াশোনা করা নয়, গবেষণার মাধ্যমে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে দেশের মানুষের কাজে লাগানো।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, অলিম্পিয়াড ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন তিনি। সীমিত সুযোগ-সুবিধা আর নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিলোত্তমা রায় প্রমাণ করলেন — অধ্যবসায়, পরিকল্পনা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন। তিনি মূলত শিক্ষাবিষয়ক এক্সপার্ট। তিনি লেখাপড়া, চাকরি বা ক্যারিয়ার, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত লেখালেকি ও সংবাদ সম্পাদনা করেন।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.