নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। টানা সপ্তম দিনের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যদিও মূল ফটকে আগের তুলনায় কিছুটা শিথিলতা দেখা গেছে, ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে দিনভর তারা বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে দাবি আদায়ের কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক হলেও উপাচার্য এদিনও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।
এর আগে ‘লাল কার্ড’ ও ‘ব্লকেড’ কর্মসূচির পর বিকেলে ডুয়েটে সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাহার করে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডুয়েটের কোনো শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।
এদিকে সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল গতকালও ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। নিয়ম অনুযায়ী গত রোববার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। তিনি কখনও ভার্চুয়ালি, আবার কখনও সরাসরি শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ডুয়েটের অন্তত ৪৫ জন শিক্ষকের সঙ্গে জরুরি সভা করেন তিনি।
ডুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া জানান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরদপ্তরের সভাকক্ষে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি সম্পর্কে উপাচার্যকে অবহিত করা হয়।
আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যায় শিক্ষকরা বিষয়টি তাদের অবহিত করেন। নবনিযুক্ত উপাচার্য শিক্ষকদের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অন্তত একবার আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আগুনে পোড়া একটি মোটরসাইকেলের অংশ পড়ে আছে। এছাড়া খালি পানির ট্যাঙ্ক ও কাঠ ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। আন্দোলনের কারণে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়।
গত রোববার সকালে সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যের যোগদানকে কেন্দ্র করে ডুয়েট এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন।
ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অভিযোগ করে আসছে, নতুন উপাচার্য নিয়োগ বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তাদের দাবি, ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে।