এ বছর ক্যান্টন ফেয়ার প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকী। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এ মেলার জন্য বিশেষভাবে অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন, যেখানে ক্যান্টন ফেয়ারের অর্জনকে সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং চীনের উচ্চমানের উন্মুক্ততা সম্প্রসারণের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ১৪ অক্টোবর বিকেলে কুয়াংচৌতে ১৪০তম চীন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য মেলা বা ক্যান্টন ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মূল বক্তব্যে এমনটা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যান্টন ফেয়ার-এর ‘জানালা’ দিয়ে বিশ্ববাসী চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে থাকা বিপুল প্রাণশক্তি দেখতে পেয়েছে।
লি ছিয়াং আরও বলেন, দেশীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রমাগত সংহতকরণ ও যৌথ বৃদ্ধি এগিয়ে নিতে এবং একটি উন্মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। ‘সুপার সেলার’ ও ‘সুপার বায়ার’ হিসেবে চীন বিভিন্ন পক্ষের জন্য আরও বেশি করে ‘প্রতিবেশীর উপকার’ ও ‘প্রতিবেশীকে সমৃদ্ধ করার’ প্রভাব নিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।
লি ছিয়াং বলেন, বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চীন সবসময় যৌথ উন্নয়ন এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিজের উন্নয়নের পাশাপাশি, চীন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশকে সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে আসছে।
চীন সবসময় উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ভালো বন্ধু থাকবে এবং আধুনিকায়নের পথে বিপুল সংখ্যক উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে ইচ্ছুক বলেও জানান তিনি।
লি ছিয়াং জোর দিয়ে বলেন, চীন ক্রমাগত উচ্চমানের উন্নয়ন এগিয়ে নেবে, উচ্চমানের উন্মুক্ততা সম্প্রসারিত করবে এবং সক্রিয় ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বেশি গতি সঞ্চার করবে।
এ সময় আরও বেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে চীনে ব্যবসা করতে স্বাগত জানানো এবং আরও বেশি পারস্পরিক উপকারী সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথাও বলেন লি ছিয়াং। বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার নীতিতে অটল থাকা, বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সমন্বয় গভীর করা এবং সক্ষম চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে বিদেশে বিনিয়োগে সমর্থন জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
লি ছিয়াং বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক শৃঙ্খলা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার পাশাপাশি বহুপাক্ষিকতা ও অবাধ বাণিজ্যে অটল থাকা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার ও উন্নয়নকে সমর্থন জানানো হবে।
অনুষ্ঠানে দেওয়া ভিডিও ভাষণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক ইভেলা দিয়ে জানান, চীনের উন্নয়ন বিশাল অর্জন করেছে এবং বিশ্বের জন্য বিরল সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রায় ৯০টি দেশ ও অঞ্চলের ৭০০ জনেরও বেশি বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এবারের মেলায় মোট ৩০ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবং প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার বিদেশি ক্রেতা এসেছেন।
সূত্র: সিএমজি