সাকিব সিকান্দার
ইয়াকের ক্লোনিংয়ে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে চীন। সোমবার চীনা বিজ্ঞানীরা এক ঘোষণায় এ তথ্য জানান। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিচাংয়ে ইয়াকের ক্লোন করা ১০টি শাবকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জন্ম হয়েছে।
সিচাংয়ের তামসুং কাউন্টির একটি ইয়াক প্রজনন ও গবেষণা কেন্দ্রে গত ২৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে এরা জন্মলাভ করে। শাবকগুলোর মধ্যে তিনটি কালো ও সাতটি সাদা। গুণগত মানের দিক থেকে এরা সব প্রত্যাশিত মান পূরণ করেছে এবং তাদের ওজন ক্রমাগত বাড়ছে।
চেচিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দলটির প্রধান ফ্যাং শ্যেংকুও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে যে প্রযুক্তিটি এককালীন সাফল্য থেকে এক স্থিতিশীল ও ব্যাপকভাবে প্রয়োগের পর্যায়ে চলে এসেছে।‘
ক্লোন করা প্রথম ইয়াকটি জন্ম নেয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে। সে বেশ সুস্থ-সবলভাবেই বেড়ে ওঠে এবং বর্তমানে তার ওজন ১৮৩ কেজির মতো। এরপর প্রথমবারের মতো এমন গণ-প্রজনন সম্ভব হলো।
ছিংহাই-তিব্বত মালভূমির একটি স্থানীয় প্রাণী ইয়াক। এরা কেবল স্থানীয় পশুপালক সম্প্রদায়ের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎসই নয়, বরং মালভূমির বাস্তুতন্ত্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এরা ক্লোনকৃত অন্যান্য সাধারণ গবাদি পশুর মতো নয়। ইয়াক মালভূমির স্বল্প অক্সিজেন ও তীব্র অতিবেগুনি রশ্মির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য অনন্য কোষীয় কৌশল তৈরি করে নিয়েছে।
ইয়াক বিষয়ে এই যৌথ প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন আঞ্চলিক মালভূমি জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, তামসুং কাউন্টি সরকার এবং চেচিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এ প্রকল্পে ইয়াকগুলোর ক্লোনিংয়ে সম্পূর্ণ জিনোম নির্বাচন এবং দেহকোষ ক্লোনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
চীনের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) চলাকালীন সিচাং তার উচ্চভূমির কৃষি ও পশুপালনকে অন্যতম প্রধান শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
ফ্যাং বলেন, ‘নতুন এই ক্লোনিং প্রযুক্তি ধীরগতির জিনগত প্রজনন চক্র ও ইয়াকের গুণমান হ্রাসের মতো দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতাগুলোর সমাধানে কাজ করে। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন, স্থানীয় জীবিকা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত সুরক্ষাকে একীভূতকরণের সঙ্গে অঞ্চলটিকে আধুনিক ও উন্নতমানের মালভূমি কৃষিতে রূপান্তরের হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করবে।
সূত্র: সিএমজি