মে ১৪, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: কৃত্রিমভাবে তৈরি চাঁদের মাটি থেকে প্রস্তুতকৃত উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ফাইবারের নমুনা চীনের মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। সেখানে মহাকাশের চরম পরিবেশে এই তন্তুর স্থায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষা চালানো হবে।
শাংহাইয়ের তোংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তারা এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন—যা বিশ্বে প্রথম শূন্য বা ভ্যাকুয়াম পরিবেশে চাঁদের মাটিকে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন তন্তুতে রূপান্তরে সক্ষম।
এই যন্ত্রটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং চাঁদের মানবহীন, শূন্য ও নিম্ন-অভিকর্ষজ পরিবেশে কাজ করার উপযোগী করে তৈরি। এর বিশেষত্ব হলো- এতে কোনো বাড়তি রাসায়নিক বা উপাদানের প্রয়োজন হয় না; কেবল চাঁদের মাটিই একমাত্র কাঁচামাল। এতে মাটির গুঁড়াকে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে সিরাপের মতো তরলে পরিণত করা হয়। ভ্যাকুয়াম ট্রাকশন এবং হাই-স্পিড স্পিনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই তরল থেকে মানুষের চুলের চেয়েও কয়েক গুণ পাতলা তন্তু বের করা হয়।
২০২১ সাল থেকে এই গবেষক দলটি চাঁদের মাটি নিয়ে গবেষণা শুরু করে। চীনের ‘ছাং-এ ৫’ মিশনের সংগৃহীত ৫০০ মিলিগ্রাম আসল চাঁদের মাটি হাতে পাওয়ার পর তাদের এই কার্যক্রম আরও গতি পায়। তবে আসল মাটি অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় তারা পরীক্ষার জন্য কৃত্রিম ‘চাঁদের মাটি’ তৈরি করে তা থেকে এই তন্তু উৎপাদন করেছেন।
মহাকাশ স্টেশনে এই তন্তু বা ফাইবারের ওপর উচ্চ-ভ্যাকুয়াম, তীব্র বিকিরণ এবং চরম তাপমাত্রার ওঠানামার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে। গবেষকরা মনে করছেন, এই তন্তু ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী অবকাঠামো বা ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য শক্তিশালী উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এটি সফল হলে পৃথিবী থেকে নির্মাণসামগ্রী বহন করার খরচ ও জটিলতা অনেকাংশে কমে যাবে।
শুভ/সাকিব
তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া