মে ১৪, সিএমজি বাংলা: বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দু’দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ভবিষ্যতে টেক্সটাইল খাতে পরিবেশবান্ধব যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতেও চীন প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার-আইসিসিবিতে বাংলাদেশ-চীন গ্রিন টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ও চীনের টেক্সটাইল খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে তিন দিনব্যাপী চলবে এ আয়োজন। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমাবে।‘ সেইসঙ্গে দেশের পাট শিল্প এবং সোলার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বাংলাদেশের প্রতি চীনের সমর্থনের কথা তুলে ধরে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘বাংলাদেশের শতভাগ টেক্সটাইল পণ্যে ইতোমধ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে চীন, যা ২০২৮ সালের শেষপর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আরও বেশি মানসম্মত বাংলাদেশি পণ্য চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে এবং চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। বাংলাদেশে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্পন্ন পণ্য বাস্তবায়নে চীন সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত। দু’দেশের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সবুজ বস্ত্রখাতে সহযোগিতা আরও ফলপ্রসূ হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফাইজুল আলম। আরও ছিলেন চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ- সিইএবি’র সভাপতি হান খুন, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি- বিসিসিসিআই’র সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ-ওসিএআইবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিসা লু, বিজিএমইএ পরিচালক শাহ রায়ীদ চৌধুরীসহ আরও অনেক।
এ সময় আয়োজকরা জানান, সবুজ ও টেকসই টেক্সটাইল শিল্পের উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েই এবারের এ আয়োজন।
বক্তব্য শেষে ফিতা কাটার মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তারা।
তিন দিনব্যাপী এবারের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে একাধিক চীন ও বাংলাদেশের টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান। এতে স্থান পেয়েছে টেক্সটাইল খাতের নতুন আবিষ্কার ও প্রযুক্তি সম্বলিত মেশিনারিজ।
লুৎফর/সাকিব
তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা