বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চীনা ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে চীনা ভাষা বিশেষজ্ঞ ও স্বেচ্ছাসেবক পাঠানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
শনিবার ঢাকায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার উচ্চশিক্ষায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এ উদ্যোগে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, চীনা ভাষা শিক্ষা কেবল ভাষা শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দুই দেশের জনগণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা চালুর উদ্যোগে চীনা ভাষা বিশেষজ্ঞ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা পাওয়া গেলে তা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে আরও গভীর করতে সহায়ক হবে। চীনা দূতাবাস, চীনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির মধ্যে এ বিষয়ে দ্রুত সহযোগিতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ইউজিসি সদস্য আরও বলেন, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণেও চীনা ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের চীনা ভাষার পাশাপাশি ব্যবসা, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য পেশাগত দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা গেলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু চীনা ভাষা শেখানোর কেন্দ্র না হয়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে পারে।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ভাষা শিক্ষা থেকে শিক্ষা, শিক্ষা থেকে গবেষণা এবং গবেষণা থেকে উদ্ভাবন এভাবে একটি সমন্বিত সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। চীনা ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, সামার স্কুল ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবসা শিক্ষার ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করা যেতে পারে।
ইউজিসি সদস্যের মতে, চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ-চীন শিক্ষা ও জনসম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
সূত্র: সিএমজি