বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চীন সরকার বাংলাদেশের পণ্যের জন্য বিনামূল্যে চীনের খুনমিংয়ে ডিসপ্লে সেন্টার ও ২০০০ বর্গমিটারের গুদামজাতকরণ সুবিধা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেন।
রোববার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার এক পাঁচ তারকা হোটেলে মধ্যাহ্নভোজ অভ্যর্থনা ও আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন-বিসিএফএ’র উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্যে জহির উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে। এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি বাড়াতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে উভয় দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ চীন থেকে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করে ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম। প্রায় ১০০ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পর চীন যেসব পণ্য উৎপাদন বন্ধ করতে যাচ্ছে, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সেগুলোতে মনোযোগ দিলে এ ঘাটতি পূরণ সম্ভব মনে করেন জহির উদ্দিন স্বপন।
কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে খুনমিং থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ও সংযোগ তৈরি হলে তা উভয় দেশের অর্থনীতিতেই নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে। চীন বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত। আগামী দিনে এক উদীয়মান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চীন ও বাংলাদেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথ অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের সিপিসি ইয়ুননান প্রোভিন্সিয়াল কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য চাও চুনমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নু।
সূত্র: সিএমজি