মে ২, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মে মাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে চীন। মে মাসে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদের মূল লক্ষ্য হবে—জাতিসংঘ সনদের কর্তৃত্ব পুনরুজ্জীবিত করা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের রাজনৈতিক সমাধান এবং আফ্রিকার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে মে মাসের কার্যতালিকা ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরেন জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং।
ফু ছোং বলেন, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত ও বিভাজন বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশ্বকে আবারও ‘জঙ্গলের রাজত্বে’ ফিরে যাওয়া থেকে বাঁচাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জাতিসংঘ সনদের চেতনা ফিরিয়ে আনা জরুরি। এ লক্ষ্যে মে মাসে ‘জাতিসংঘ কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের উন্মুক্ত বিতর্কের আয়োজন করবে নিরাপত্তা পরিষদ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে শান্ত থাকার এবং কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ মীমাংসার আহ্বান জানিয়েছেন ফু ছোং।
বিশেষ করে গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলতে হবে। মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ সুগম করতে হবে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নিরাপত্তা পরিষদ স্পষ্ট বার্তা দেবে বলে তিনি জানান।
নিরাপত্তা পরিষদের মে মাসের অন্যতম এজেন্ডা হলো আফ্রিকার দেশগুলোর সমস্যা ‘আফ্রিকান উপায়ে’ সমাধান করা। ফু ছোং বলেন, চীন আফ্রিকার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংলাপে সমর্থন দেবে এবং সংঘাতের মূল কারণগুলো দূর করতে মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাবে।
নাহার/ফয়সল
তথ্য ও ছবি- সিসিটিভি