গতকাল (সোমবার) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি উন্মুক্ত বিতর্ক আয়োজন করে। এতে চীনা প্রতিনিধি পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে জাপানি প্রতিনিধির বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, জাপানের বিবৃতি 'সত্যকে বিকৃত করেছে'। পাশাপাশি জাপানের 'নতুন ধরনের সামরিকবাদের' বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী উপ-প্রতিনিধি সুন লেই বলেন, জাপানি প্রতিনিধি পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে বেপরোয়া মন্তব্য করেছেন, যা সম্পূর্ণ বাস্তবতার বিপরীত। বর্তমানে পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের সবচেয়ে মুক্ত নৌপথগুলোর একটি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জাপান তার সশস্ত্র বাহিনীর জাহাজ তাইওয়ান প্রণালীতে 'সামরিক শক্তি প্রদর্শনের' জন্য প্রেরণ করে ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কানি দিয়েছে। এটি 'তাইওয়ান স্বাধীনতা' বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে গুরুতর ভুল বার্তা দিয়েছে। এ ঘটনা জাপানের কিছু শক্তির তাইওয়ান প্রণালীতে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চক্রান্তকে উন্মোচন করেছে।
সুন লেই বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর সংলগ্ন দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও ঔপনিবেশিক শাসন চালিয়েছিল। চীন জাপানকে আহ্বান জানায়, সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পরিবর্তে নিজের ইতিহাস নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে জাপানি সামরিকবাদের চিরাচরিত কৌশল ছিল বাহ্যিক হুমকি সৃষ্টি করে জাতীয়তাবাদ উসকে দেওয়া এবং বিদেশে আক্রমণাত্মক যুদ্ধ পরিচালনা করা। বর্তমানে জাপানের ডানপন্থী শক্তি কখনো গুরুত্ব সহকারে অনুতপ্ত হয়নি। বরং চীনের তাইওয়ান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ও সামরিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ঘন ঘন উস্কানিমূলক ও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জাপানের নতুন ধরনের সামরিকবাদ শক্তিশালী হয়ে বিপদ সৃষ্টি করছে, যা বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। আন্তর্জাতিক সমাজের এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।
সূত্র: সিএমজি