বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং চীনের আনহুই নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি সম্পাদিত হয়।
ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. সিয়ং ইউচিয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় আরও ছিলেন ঢাবির উপ-উপচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দা রোযানা রশীদ, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াং হুইসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়বে। এর মাধ্যমে রসায়ন, উপকরণ বিজ্ঞান, পরিবেশ ও প্রতিবেশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ন্যানো প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে যৌথ গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি চীনা ভাষা ও সাহিত্য, ইতিহাস এবং দর্শন বিষয়ে যৌথ গবেষণা, সেমিনার, স্বল্পমেয়াদি কোর্স এবং একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
সমঝোতা স্মারকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা বিনিময় কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও গবেষণা কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি হবে। স্বাক্ষরের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকবে, যা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য।
সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। অপরদিকে, আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কো-অপারেশন বিভাগের পরিচালক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আমাদের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবেন’।
এই উদ্যোগের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
সূত্র: সিএমজি