এপ্রিল ২৭, সিএমজি বাংলা ডেস্ক : চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা দক্ষিণ চীন সাগর সংক্রান্ত ২০১৬ সালের সালিশি রায়কে ‘অবৈধ, অকার্যকর এবং বাধ্যতামূলক নয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, এই রায় ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেছে, ন্যায়বিচারের মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও আঞ্চলিক পারস্পরিক আস্থাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও আইন বিভাগের মহাপরিচালক ছি তাহাই বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর সংক্রান্ত সালিশি ট্রাইব্যুনাল তার এখতিয়ার অতিক্রম করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বিকৃত করেছে। তার মতে, ২০১৬ সালের এই রায় সম্পূর্ণভাবে অবৈধ এবং অকার্যকর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফিলিপাইন বিভিন্ন উপায়ে এই ‘অবৈধ রায়’কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করছে। চীনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, চীন ঐতিহাসিক তথ্যকে সম্মান করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিকে শান্তি, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সাগরে পরিণত করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
হুয়ায়াং সেন্টার ফর মেরিটাইম কো-অপারেশন অ্যান্ড ওশান গভর্ন্যান্স-এর চেয়ারম্যান উয়ু শিছুন বলেন, এই সালিশি রায়ে গুরুতর আইনি ত্রুটি রয়েছে এবং এটি মূলত একটি ‘রাজনৈতিক প্রহসন’। তিনি একতরফা আগ্রাসন ও জনমত প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অংশগ্রহণকারীরা আরও উল্লেখ করেন, এই রায়ে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার, ঐতিহাসিক অধিকার, দ্বীপের আইনি অবস্থান এবং অফশোর দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত বিষয়ে মৌলিক ভুল রয়েছে।
এই বিশেষ সেমিনারটি ২০২৬ সালের চীনা আন্তর্জাতিক আইন সমিতির বার্ষিক একাডেমিক সম্মেলনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি সরকারি কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, আইনজীবী ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘আন্তর্জাতিক আইনের শাসন বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা’।
ঐশী/হাশিম
তথ্য ও ছবি : সিজিটিএন।