ফেসবুক এবং ইউটিউবের জন্য কয়েকটি ভালো থাম্ব
সেপ্টেম্বর ১১, সিএমজি বাংলা ঢাকা: একগুচ্ছ তাজা গোলাপ, লিলি কিংবা শুভ্র জিপসি। প্রিয়জনের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটাতে চাই এমনই রঙিন ফুল। শাহবাগ থেকে আগারগাঁও— ব্যস্ততার মাঝেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা অফিসগামী মানুষ ছুটে আসেন শাহবাগের ঐতিহ্যবাহী এসব ফুলের দোকানে। যেখানে শোভা পাচ্ছে চীন কিংবা থাইল্যান্ডে থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের তরতাজা ফুল।
ক্রেতারা জানান, ফুল কেনার জন্য শাহবাগ তাদের পছন্দের অন্যতম জায়গা। এর পেছনে আছে বাণিজ্যের বিশাল বাজার। বর্তমানে বাংলাদেশে আমদানিকৃত ফুলের প্রায় ৯০ শতাংশই ঢুকছে চীনের ইয়ুননান প্রদেশের খুনমিং থেকে। মূলত ২০১৫-১৭ সাল থেকে দেশের বাজারে চীন ও থাইল্যান্ডের ফুলের প্রসার বাড়তে থাকে। সেই বাজার এখন ছাড়িয়েছে বছরে ৩০০ কোটি টাকার।
একসময় ভারত থেকে কিছু ফুল আসলেও বাড়তি বিমান পরিবহন খরচ, ফুলের মান ভালো না হওয়ায় দেশের ব্যবসায়ীরা ঝুঁকে পড়েন চীনের দিকে। তাদের মতে, গণগত মান ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে চীনের ফুলই সেরা। তা ছাড়া ভারতের বিমান পরিবহন খরচও বেশি বলে জানান, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার্স সোসাইট‘র সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হোসাইন।
বর্তমানে বাংলাদেশে চারটি বড় প্রতিষ্ঠান সরাসরি চীন থেকে ফুলে আনছে। শুধু ফুলই নয়, ফুল বাঁধার বিশেষ নেট থেকে শুরু করে নান্দনিক সামগ্রীর পুরোটাই আসছে দেশটি থেকে। তবে, ফুলের জাত ও মান দেশে উৎপাদিত ফুলের চেয়ে অনেক উন্নত, যা স্থানীয় প্রযুক্তিতে চাষ করা এখনো সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় সহায়তা বীজ ও চীনা প্রযুক্তি পেলে বিদেশেও রপ্তানিও সম্ভব মনে করেন সাধারণ সম্পাদক।
বর্তমানে সারা দেশে ৬ হাজারের বেশি ছোট-বড় ফুলের দোকান থাকলেও, শুধু রাজধানীতেই আছে সাড়ে সাতশোর মতো দোকান।
চীনের মতো বাজার তৈরি করতে চাইলে বিশেষ বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানির জন্য যথাযথ পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন মনে করেন বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর।
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে চীন আজ অনেক এগিয়ে। প্রযুক্তির ব্যবহারে এখন তারা উন্নতমানের ফুল উৎপাদন করে তা রপ্তানিও করছে। এ ছাড়া কমমূল্যে ভালো প্রযুক্তির জন্য চীনের অনেক সুনাম আছে। এই মুহূর্তে চীনের সঙ্গে আমাদের ভালো বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে এবং তারা দেশের কারিগরি ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে আগ্রহী। এমন বাস্তবতায় এ খাতে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে রপ্তানিযোগ্য ফুল উৎপাদন করতে পারি। একদিকে যেমন দেশে অনেক কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারি।
কেবল আমদানি-নির্ভর না থেকে দেশের এই সম্ভাবনাময় খাতকে এগিয়ে নিতে বিশাল সুযোগ আছে। চীন যদি যৌথ উদ্যোগে দেশীয় চাষিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয় এবং চীনা বিশেষজ্ঞরা এসে পর্যবেক্ষণ করলে বদলে যেতে পারে ভাগ্য।
লুৎফর/সাকিব
সূত্র: সিএমজি বাংলা