চীনের ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসবের প্রাক্কালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি বেইজিংয়ের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন। সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান সি চিন পিং এসময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পার্ক, প্রবীণ সেবা কেন্দ্র এবং বসন্ত উৎসবের বাজার পরিদর্শন করেন ও সবাইকে চীনা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
৯ ফেব্রুয়ারি সকালে, প্রেসিডেন্ট সি বেইজিংয়ের ইজুয়াং এলাকার ‘ন্যাশনাল ইনোভেশন পার্কে’ যান এবং তথ্যপ্রযুক্তির উদ্ভাবনী অ্যাপ্লিকেশনের খোঁজখবর নেন। তিনি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও রোবটসহ নানান বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের ফলাফল ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি গবেষক ও কোম্পানির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এখানে আসা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করেছে এবং দেশের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ভবিষ্যতের প্রতি তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ গড়ে তোলার চাবিকাঠি হচ্ছে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং আত্মশক্তি বৃদ্ধি। বেইজিংকে এ বিষয়ে নিজের সুবিধা কাজে লাগিয়ে অবদান রাখতে হবে।
এরপর সি চিন পিং বেইজিংয়ের সিচেং ডিস্ট্রিক্টের বেইচাওচাং হুথুংয়ে অবস্থিত ‘উলাও সিন চিয়ে’ নামের একটি প্রবীণ সেবা কেন্দ্রে (কমিউনিটি সেন্টার) যান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিকে প্রবীণদের জন্য উপযোগী ও বাধামুক্ত কমিউনিটিতে রূপান্তর করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে, সি চিন পিং এখানকার প্রবীণ ক্যান্টিনে খাবারের দাম এবং পরিবেশ নিয়ে খোঁজখবর নেন। সেখানে বিশ্রামরত কয়েকজন ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তিনি তাদের কাজ ও জীবনযাপনের অবস্থা নিয়ে কথা বলেন এবং তাদের পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। এ ছাড়া, প্রবীণ অ্যাপার্টমেন্টে সি চিন পিং বয়স্কদের শারীরিক পরীক্ষা, পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ এবং দৈনন্দিন যত্ন নিয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, বয়স্কদের সম্মান করা এবং তাদের যত্ন নেওয়া চীনা জাতির ঐতিহ্য। তাদের ভালোবাসা ও সাহায্য করা পুরো সমাজের অভিন্ন দায়িত্ব।
সি চিন পিং তুংছেং ডিস্ট্রিক্টের লং ফু সি রাস্তায় এসে পুরাতন বেইজিং শহর সংরক্ষণ ও সংস্কারকাজের খোঁজখবর নেন। তিনি ‘তাও সিয়াং ছুন’ নামে একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও কেকের দোকানে এসে মিষ্টি বানানোর প্রক্রিয়া দেখেন। ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল চীনা চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী ‘সিয়াও নিয়ান’ বা ছোট বসন্ত উৎসব। এখানকার বসন্ত উৎসবের বাজারটি অনেক পর্যটক ও নাগরিকদের আকর্ষণ করে। সি চিন পিং বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় তিনি কয়েকবার লংফুসি রাস্তায় ঘুরতে এসেছিলেন। রাস্তায় তখন প্রাণবন্ত ও প্রফুল্ল ‘চিংসি তাইপিং ড্রাম’-এর পরিবেশনা চলছিল। এই সুযোগে সি চিন পিং বেইজিংয়ের নাগরিক ও চীনা জনগণের প্রতি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, "আমি সিপিসির পক্ষ থেকে সকল চীনা জাতিকে বসন্ত উৎসবের শুভেচ্ছা জানাই। দেশজুড়ে সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুস্থ ‘ঘোড়ার বছর’, কর্মজীবনে মহান সাফল্য এবং পরিবারের সুখ কামনা করছি! আমাদের মহান মাতৃভূমির সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য, অনুকূল আবহাওয়া, সমৃদ্ধি এবং শান্তি কামনা করছি।"
পরিদর্শনকালে সি চিন পিং বেইজিং সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটি ও সরকারের কাজের প্রতিবেদন শোনেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেইজিং যে সাফল্য অর্জন করেছে তার প্রশংসা করেন।তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা” সময়কাল সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়ন বাস্তবায়নের ভিত্তি নির্মাণ ও সার্বিক অগ্রগতি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এজন্য বেইজিংকে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।
(শিশির/তৌহিদ/আনন্দী)
বসন্ত উৎসবের প্রাক্কালে বেইজিংয়ের তৃণমূলে ক্যাডার ও জনগণের খোঁজখবর নিলেন প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং
Stay Connected:
Our Editorial Standards
We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.
Fact-Checked
Every claim is verified by our editorial team before publication.
Expert Review
Content reviewed by subject matter experts for accuracy.
Regularly Updated
We update content to reflect the latest developments.
Unbiased Coverage
We present balanced perspectives and multiple viewpoints.