বৃহস্পতিবার সকালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, দেশের প্রেসিডেন্ট এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান সি চিন পিং শাংহাইয়ে মৌলিক গবেষণা শক্তিশালীকরণ বিষয়ক একটি সেমিনারে উপস্থিত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মৌলিক গবেষণা হলো সমগ্র বিজ্ঞান ব্যবস্থার উৎস এবং সব প্রযুক্তিগত সমস্যার মূল চাবিকাঠি। চীনের মৌলিক উদ্ভাবন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার ভিত্তি আরও মজবুত করতে জোরালো ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সি চিন পিং উল্লেখ করেন, মৌলিক গবেষণার পদ্ধতিগত বিন্যাসকে আরও সুবিন্যস্ত করতে সামগ্রিক পরিকল্পনা এবং শীর্ষ পর্যায়ের নকশা শক্তিশালী করতে হবে। মৌলিক গবেষণার প্রধান দিকনির্দেশনা ও মূল ক্ষেত্রগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চস্তরের গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন ধরনের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশকে উৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। শিল্পখাতের নেতৃত্বে শিক্ষায়তন ও গবেষণার গভীর সমন্বয় ঘটিয়ে মৌলিক গবেষণা, ফলিত উন্নয়ন এবং অর্জিত ফলাফলের রূপান্তরকে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবন শৃঙ্খলে পরিণত করতে হবে। এ ছাড়া, মৌলিক বিষয়গুলোর উন্নয়ন এবং ফলিত বিজ্ঞানের সাথে এদের সমন্বিত অগ্রগতির ওপর জোর দিতে হবে।
সি চিন পিং নির্দেশ দেন যে, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং মেধার উন্নয়নকে একীভূতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নিয়োগ এবং তাদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে মৌলিক গবেষণার একটি শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে হবে। তিনি মৌলিক গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলেন। গবেষণার বাজেটে মৌলিক গবেষণার অনুপাত ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করতে হবে এবং বিনিয়োগের বৈচিত্র্যময় কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবন নেটওয়ার্কের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, পরিবেশ এবং জীবন ও স্বাস্থ্যের মতো প্রধান বৈজ্ঞানিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় যৌথ গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিময় ও সহযোগিতা গভীর করার এবং বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত শাসনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দেন তিনি।
সূত্র: সিএমজি বাংলা