এপ্রিল ২৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) একটি মডেল সিস্টেম উন্মোচন করেছে চীনের বিজ্ঞান একাডেমি (সিএএস)। মঙ্গলবার উন্মোচিত এই সিস্টেম গণিত, পদার্থবিদ্যা ও জীববিজ্ঞানসহ একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করে তুলবে। সেইসঙ্গে এআই-চালিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন অনুসন্ধানগুলোকে সমন্বিত, দক্ষ ও প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক উদ্ভাবনের দিকে নিয়ে যাবে।
সায়েন্সওয়ান ১০০ নামে পরিচিত এই মডেল সিস্টেমটি যে মডেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে তার নাম সায়েন্সওয়ান। সেখানে বহুমাত্রিক বিষয়বস্তুর জন্য নির্দিষ্ট একাধিক বৃহৎ মডেলের সমন্বয় বিরাজ করে। সায়েন্সওয়ান তিনটি মূল বিষয়ে কাজ করে: সাহিত্য কম্পাস, উদ্ভাবন মূল্যায়ন এবং এজেন্ট ফ্যাক্টরি, যা সমগ্র গবেষণা ও উদ্ভাবন কর্মপ্রবাহকে শক্তিশালী করে তোলে।
সায়েন্সওয়ান মডেলটি ২০২৫ সালে প্রথম অবমুক্ত করা হয়। পেশাদার বৈজ্ঞানিক তথ্য সংকলন ও তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহার করে একে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এর সর্বশেষ সংস্করণটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন ও দীর্ঘমেয়াদী যুক্তি প্রয়োগে ফ্ল্যাগশিপ পর্যায়ের কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে। এ ছাড়াও বৈজ্ঞানিক চিত্র বুঝতে পারা ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে এটি বর্তমান বিশ্বের সর্বাধুনিক ও অন্যতম সেরা ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছে।
লিটারেচার কম্পাস মূলত গভীর সাহিত্য পাঠ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা লেখার সুবিধা প্রদান করে, যা গবেষকদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এ ছাড়া উদ্ভাবন মূল্যায়ন বৈজ্ঞানিক সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রের অত্যাধুনিক গতিশীলতা অনুধাবন করতে সক্ষম, যা গবেষকদের মূল বৈজ্ঞানিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনের দিকে দক্ষতার সঙ্গে ধাবিত করতে সহায়ক হয়ে ওঠে।
এদিকে, এজেন্ট ফ্যাক্টরি স্বয়ংক্রিয় ক্লোজড-লুপ এজেন্ট টুলচেইন এবং উৎপাদনে বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা দুই হাজারের বেশি গবেষণা সরঞ্জাম সরবরাহ ও ১০টিরও বেশি গবেষণা ক্ষেত্রকে সমর্থন করে।
মডেল সিস্টেমটিতে বর্তমানে আটটি ক্ষেত্র-নির্দিষ্ট বৃহৎ মডেল রয়েছে, যেখানে পদার্থবিজ্ঞান, বস্তুবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান, মহাকাশ, ভূবিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই সিস্টেম ইতোমধ্যে ৫০টিরও বেশি সিএএস প্রতিষ্ঠানে স্থাপন ও প্রয়োগ করা হয়েছে, যা ১০০টিরও বেশি গবেষণা পরিস্থিতিকে সামাল দেয়। এটি উচ্চ-গতির রেলখাতে পুনর্গঠন, বর্ণালী শনাক্তকরণ, পদার্থের আবিষ্কার, উপযোগী নকশা প্রস্তুতকরণ, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, ছিংহাই-তিব্বত মালভূমিতে বৈজ্ঞানিক অভিযান, সামুদ্রিক পূর্বাভাস এবং পরিবেশগত গবেষণার মতো সাধারণ ক্ষেত্রগুলোতে অসাধারণ সম্ভাবনা দেখিয়েছে।
সাকিব/হাশিম
তথ্য: সিনহুয়া, ছবি: চায়না ডেইলি।