এপ্রিল ২৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোকে এই অঞ্চলে দ্রুত স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং। মঙ্গলবার ফিলিস্তিন প্রশ্নসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের এক উন্মুক্ত বিতর্কে তিনি এই আহ্বান জানান।
ফু ছোং বলেন, ‘কিছুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যা একে ব্যাপক পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে। সেইসঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধ থেকে শান্তিতে উত্তরণের এক সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।‘
ফিলিস্তিন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘চীন সকল পক্ষকে শান্তির এই সুযোগ কাজে লাগানো, সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, সর্বাধিক আন্তরিকতা দেখানো এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানাচ্ছে, যেন মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে যুদ্ধবিরতি ও মধ্যস্থতার গতিতে কোনো পশ্চাদপসরণ না ঘটে।’
‘ফিলিস্তিন প্রশ্ন সবসময়ই মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এবং কোনো অবস্থাতেই একে উপেক্ষা করা যাবে না’, যোগ করেন ফু।
গাজাজুড়ে টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে, বিশেষ করে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে, মানবিক সহায়তার পথে সমস্ত বাধা দূর করতে হবে এবং মানবিক সংস্থাগুলো যেন তাদের ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বসতি স্থাপন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের পরিপন্থী। অবৈধ দখলদারি দীর্ঘায়িত করলে কোনো পক্ষই নিরাপদ বোধ করবে না। বরং এটি একটি দুষ্টচক্রকে তীব্রতর করবে। ইসরায়েলকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো আহ্বানে সাড়া দিতে হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কার্যকরভাবে দমন এবং সকল হামলার জন্য স্পষ্ট জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নে এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নের একটি ব্যাপক, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী সমাধান দ্রুত অর্জনে চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করে ফু।
সাকিব/হাশিম
তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন।