“ফোরাম অন গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস গাভর্ন্যান্স-২০২৬” বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য এবং সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার বিভাগের মন্ত্রী লি শু লেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন এবং মূল ভাষণ দেন।
অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান ও সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। ২০২৩ সালে, তিনি ফোরাম অন গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস গাভর্ন্যান্সে একটি অভিনন্দনপত্র পাঠান, যেখানে নিরাপত্তার মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষা, উন্নয়নের মাধ্যমে মানবাধিকারের প্রসার এবং সহযোগিতার মাধ্যমে মানবাধিকারের অগ্রগতির বিষয়ে চীনের প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। চীন সময়ের ধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং তার জাতীয় পরিস্থিতির উপযোগী একটি মানবাধিকার উন্নয়ন পথ অনুসরণ করে এবং জাতীয় মানবাধিকার কর্ম পরিকল্পনার চারটি পর্যায় সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। চীনা বৈশিষ্টসম্পন্ন আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়ায়, চীন ক্রমাগত মানবাধিকার সুরক্ষার স্তর উন্নত করেছে এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে নতুন ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে।
অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন যে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল ও অস্থিতিশীল এবং মানবাধিকার বাস্তবায়ন গুরুতর প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। সব দেশের উচিত মানবাধিকার সভ্যতার উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনে একযোগে কাজ করা এবং মানবজাতির অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি যৌথভাবে গড়ে তোলা। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে যৌথভাবে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা উচিত। উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন উন্নয়নের সুফল সব দেশের মানুষ আরও ব্যাপকভাবে ও ন্যায্যভাবে ভোগ করতে পারে। যৌথভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালা মেনে চলতে হবে এবং মানবাধিকার বাস্তবায়নের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গত আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সংহতি ও সহযোগিতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে, আমাদের সম্মুখীন হওয়া সাধারণ মানবাধিকার প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং মানবাধিকারের রূপকল্পকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
"উন্নয়নের জন্য একযোগে কাজ, মানবাধিকারের অংশীদারিত্ব: উন্নয়নের অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়ার ৪০তম বার্ষিকী এবং বৈশ্বিক মানবাধিকার শাসনের জন্য একটি নতুন রূপকল্প" শীর্ষক এই ফোরামটি যৌথভাবে রাষ্ট্রীয় পরিষদের তথ্য কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজন করে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোসহ শতাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ৪০০ জনেরও বেশি চীনা ও বিদেশি অতিথি এই ফোরামে অংশগ্রহণ করেন।
লিলি/তৌহিদ/রুবি