Thursday, May 21, 2026
Live

সীমান্ত বাণিজ্যনীতি বদলে দিল মানচৌলির জীবনযাত্রা

সীমান্ত বাণিজ্যনীতি বদলে দিল মানচৌলির জীবনযাত্রা

চীনের উত্তরাঞ্চলের মানচৌলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করছে রাশিয়ার মালবাহী ট্রেন। ট্রেনগুলোতে থাকছে সাইবেরিয়া ও রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের উর্বর অঞ্চল থেকে আনা শস্য ও তেলবীজ। সীমান্ত পার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এসব কাঁচামাল স্থানীয় কারখানায় প্রক্রিয়াজাত হয়ে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে। চীনের সীমান্ত বাণিজ্যনীতির সুবিধা নিয়ে বৃহত্তম স্থলবন্দর নগরী মানচৌলির হাত ধরে চীনের অনেকের জীবনযাত্রায় এসেছে অভাবনীয় পরিবর্তন।

মানচৌলি রাশিয়ার জাবায়কালস্ক শহরের বিপরীতে। দুই দেশের মধ্যে রেলপথে বাণিজ্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি এই সীমান্ত দিয়ে পরিচালিত হয়। শহরটি চীন-রাশিয়া বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।

স্থানীয় শস্য ও তেল প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান সিন ফং গ্রেইন অ্যান্ড অয়েল-এর ব্যবস্থাপক ইয়াং চিহং বলেন, তাদের ৯০ শতাংশের বেশি কাঁচামাল রাশিয়া থেকে আসে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য।

কারখানায় আমদানিকৃত শস্য পরিষ্কার, বাছাই ও পরিশোধনের মাধ্যমে আটা, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি হয়। ইয়াং জানান, সাইবেরিয়া ও রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কৃষিপণ্য কঠোর পরিবেশগত মান বজায় রেখে উৎপাদিত হওয়ায় এসব শস্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং চীনের বাজারে চাহিদাও অনেক।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সমবায়ভিত্তিক অংশগ্রহণও এই বাণিজ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সীমান্ত বাণিজ্য নীতির আওতায় প্রত্যেক বাসিন্দা দৈনিক ৮ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানির সুবিধা পান। সমবায়গুলো এসব পণ্য মানচৌলির অনুমোদিত প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে।

এই ব্যবস্থায় শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর কমে, কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুত হয় এবং কাঁচামালের ধারাবাহিক সরবরাহ থাকে। ফলে একই মানের রাশিয়ান শস্যে প্রতি টনে ৫০০ থেকে ১ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত খরচ সাশ্রয় হয় বলে জানান ইয়াং।

শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও এই মডেল থেকে লাভের অংশ পাচ্ছেন, যা সীমান্ত এলাকার অর্থনীতিকে আরও সক্রিয় করে তুলছে।

মানচৌলির শিল্প, তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যুরোর উপপরিচালক ছেন রুই জানান, ২০১৩ সালে শহরটিকে কৃষিপণ্য আমদানির আনুষ্ঠানিক বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে এখানে রাইসরিষা, বার্লি, গম ও সয়াবিনসহ ১২ ধরনের কৃষিপণ্য আমদানি হচ্ছে। এখন পাঁচটি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১৩ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি।

শহরটি সীমান্তভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে এখানে ৭ হাজার ৭২৩ জন বিদেশি পর্যটক এসেছেন, যাদের বেশিরভাগই কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেছেন। অনেক পর্যটক এখান থেকে বেইতাইহ্য ও ছিনহুয়াংতাওয়ের সমুদ্রসৈকত এলাকায়ও ভ্রমণ করেন।

স্থানীয় পর্যটন কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্তভিত্তিক শিক্ষা সফরও বাড়ছে। রাশিয়ান শিক্ষার্থীরা সফরে এসে চীনের সীমান্ত শহরের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

ফয়সল/লুৎফর

তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি।

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.