Saturday, July 4, 2026
Live

৭ জুলাই থেকে বর্তমান: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নিয়ে চীন কেন সতর্ক?

মাহফুজ রহমান
মাহফুজ রহমান ডেস্ক সম্পাদক
Published: Updated:
৭ জুলাই থেকে বর্তমান: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নিয়ে চীন কেন সতর্ক?

ইয়াং ওয়েই মিন স্বর্ণা, সিএমজি, বেইজিং

বাংলাদেশের বন্ধুরা, আপনারা যখন ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি বলেন, তখন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের কথাই স্মরণ করেন। চীনাদের কাছেও ৭ জুলাই তেমনি একটি বেদনা ও প্রতিরোধের স্মৃতিবহ দিন। ১৯৩৭ সালের এই দিনে, লুকৌছিয়াও (মার্কো পোলো সেতু)’র গুলির শব্দে চীনের জাতীয় প্রতিরোধ যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। এটি শুধু চীনের ইতিহাস নয়, বরং আগ্রাসন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে এশিয়ার জনগণের যৌথ প্রতিরোধ।

আমরা আজ শান্তির যুগে বাস করছি। কিন্তু ইতিহাসের ধোঁয়া তো স্মৃতি থেকে মুছে যাবার নয়। যখনই চীনা জনগণ শোনে, জাপানের কিছু রাজনীতিক ইয়াসুকুনি মন্দিরে পূজা দিতে যাচ্ছেন, শান্তি-সংবিধান সংশোধন করতে চলেছেন, কিংবা দক্ষিণ চীন সাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর চেষ্টা করছেন, সেই গভীর ব্যথা ফের জাগ্রত হয়। এই অনুভূতি ‘জাপান-বিরোধী মনোভাব’ নয়; বরং এটি একটি শোচনীয় ইতিহাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সতর্কতার বোধ।

ইতিহাসের ক্ষত: কেন সহজে ‘পাতা ওল্টানো’ যায় না?

অনেক বাংলাদেশি বন্ধু যারা পূর্ব এশিয়ার আধুনিক ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত নন, তারা হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন: যুদ্ধ শেষ হয়েছে প্রায় ৯ দশক হলো, তা হলে কেন চীনারা এখনও কেন এত সংবেদনশীল?

এর কারণ—শুধু যে ওই সময় সাড়ে তিন কোটি চীনা সেনা ও বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন তা নয়, বরং যুদ্ধোত্তর জাপান কখনই জার্মানির মতো সম্পূর্ণ আত্মসমালোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। নানচিংয়ে ৩ লাখ নিরীহ বেসামরিক মানুষ হত্যার শিকার হয়েছিল; উত্তর-পূর্ব চীনে জীবিত মানুষের ওপর জীবাণু-অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল কুখ্যাত ‘৭৩১ ইউনিট’। মানবতাবিরোধী এ অপরাধগুলোকে বরাবরই বেশ হালকাভাবে উপস্থাপন করেছে জাপানের ডানপন্থী শক্তি। এমনকি তারা অস্বীকারও করেছে।

ধরুন একটি পরিবারের কথা, যারা সহিংসতার শিকার হয়েছে এবং বছরের পর বছর আক্রমণকারীর বংশধররা ক্ষমা তো চায়নি, বরং পারিবারিক ইতিহাস বিকৃত করে, অপরাধের প্রমাণ ধ্বংস করে আবার অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। তো, সেই পরিবার কি তা উপেক্ষা করতে পারে? সুতরাং, জাপানি ডানপন্থীদের প্রতি চীনাদের ক্ষোভ মূলত ন্যায়বিচারের প্রতি দৃঢ়তার প্রতিফলন।

সামরিকবাদ কি আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে?

যদি ইতিহাস থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত তাকাই, দেখা যাবে, চীন ও অন্যান্য এশীয় প্রতিবেশীদের উদ্বেগ ভিত্তিহীন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জাপান তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। ‘আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষা’ নীতি ছেড়ে ‘শত্রু অঞ্চলের ওপর হামলার সক্ষমতা’ অর্জনের চেষ্টা করছে তারা। কিছু রাজনীতিবিদ প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘তাইওয়ানের কোনো সমস্যা হলে তা জাপানেরও সমস্যা’—এটি স্পষ্টতই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার সামিল। এগুলো ইঙ্গিত দেয়—জাপানি সামরিকবাদের ভূত এখনও বিলীন হয়নি, বরং নতুন ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের রূপে আবার মাথা তোলার চেষ্টা করছে।

এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিবহন পথ এবং জনকল্যাণের সাথে জড়িত। যদি এশিয়া আবার অস্ত্র প্রতিযোগিতা বা ভূরাজনৈতিক সংঘাতে নিমজ্জিত হয়, তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি দূরবর্তী পশ্চিমা দেশগুলোর হবে না, বরং এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোরই হবে। আর বাংলাদেশও দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

‘লুকৌছিয়াও ঘটনা’ কীভাবে দেখবেন? আমরা কী বার্তা দিতে চাই?

সাংবাদিক হিসেবে, কীভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘লুকৌছিয়াও ঘটনা’ নিয়ে লেখা যায়? আমরা শুধু দূরবর্তী ঐতিহাসিক তারিখগুলোর তালিকা দিয়েই ক্ষান্ত হতে চাই না, বরং তিনটি অর্থ তুলে ধরতে চাই—

সভ্যতা ও বর্বরতার দ্বন্দ্ব: প্রথমত, সেই যুদ্ধ শুধু ভূখণ্ডের লড়াই ছিল না, এটি সভ্যতা বনাম বর্বরতা, ন্যায় বনাম অন্যায়ের লড়াই ছিল। ওই সময়কার চীনের প্রতিরোধ যুদ্ধটি কিন্তু বাংলাদেশের একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে চেতনাগতভাবে গভীর সাদৃশ্যপূর্ণ।

শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিহীনতা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন: দ্বিতীয়ত, জাপান যখন আগ্রাসন চালায়, তখন ‘মহা পূর্ব এশিয়া সহসমৃদ্ধি বলয়’-এর ছদ্মবেশ ব্যবহার করেছিল। আজও কিছু দেশ ‘স্বাধীন ও উন্মুক্ত’ হওয়ার নামে নতুন জোট গঠন করছে। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়—যখন মিথ্যা সুন্দর আবরণে সজ্জিত হয়, তখনই তা সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

শান্তির ভঙ্গুরতা: তৃতীয়ত, শান্তি কখনও স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান থাকে না, এর জন্য ন্যায়ের শক্তির সুরক্ষা এবং ইতিহাসের স্পষ্ট জ্ঞান প্রয়োজন। চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কীভাবে এ শান্তি রক্ষা করতে হয় সেটাও আমরা ভুলতে পারি না।

যৌথ ভবিষ্যত: আমরা কেমন এশিয়া চাই?

চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব বিদ্যমান। পদ্মা সেতু থেকে শুরু করে ঢাকা মেট্রো পর্যন্ত চীনা উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নে কাজ করছে। এটা সবাই উপলব্ধি করবে যে, অস্থিতিশীল এশিয়া সমস্ত উন্নয়ন ধ্বংস করে দিতে পারে।

জাপানি সামরিকবাদের প্রতি চীনের এ সতর্কতা কিন্তু ঘৃণা চিরস্থায়ী করার জন্য নয়, ইতিহাসের ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর জন্য। আমরা আশা করি, জাপানের তরুণ প্রজন্ম সত্য ইতিহাস জানবে, এবং আন্তর্জাতিক সমাজ ও বাংলাদেশের বন্ধুরা বুঝতে পারবে যে, একটি বিশৃঙ্খল ও বিভক্ত এশিয়া সকল এশীয়র জন্যই বিপর্যয়ের। আমরা সবাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ, ন্যায়পরায়ণ ও শান্তিপূর্ণ এশিয়া রেখে যেতে চাই।

৭ জুলাইয়ের বিশেষ দিনে, আমরা ঘৃণার স্মৃতি উদযাপন করি না; বরং যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের জন্য, অর্জিত শান্তির জন্য এক গম্ভীর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করি।

—লেখাটি বাংলাদেশের সকল শান্তিপ্রিয় বন্ধুদের প্রতি উৎসর্গ করা হলো।

সিএমজি বাংলা

从“七七”到当下:为何中国警惕历史重演?

亲爱的孟加拉国朋友们,

当你们在孟加拉语中谈及“Muktijuddho”(解放战争)时,你们会想起1971年为了自由与尊严而战的流血牺牲。对于中国人而言,每年7月7日也是一个铭刻伤痛与抗争的日子。1937年的这一天,卢沟桥的枪声揭开了中国全民族抗战的序幕。这段历史,不只是中国的记忆,更是亚洲人民共同对抗侵略与暴行的见证。

今天的我们,生活在和平年代,但历史的硝烟从未在记忆中散去。每当中国民众听闻日本某些政治人物参拜靖国神社、修改和平宪法或试图将航母舰队的触角伸向南海时,那种深埋于心的隐痛和警惕便会被重新唤醒。这种感受,并不是简单的“反日情绪”,而是一种基于惨痛历史的生存警觉。

历史的伤口:为什么无法轻易“翻篇”?

对于很多不了解东亚近代史的孟加拉国朋友来说,或许会问:战争已经过去近90年,为什么中国人依然如此介意?

这不仅仅是因为那场战争造成了3500万中国军民的伤亡,更因为日本军国主义在战后从未像德国那样进行彻底的忏悔与切割。在南京,三十万无辜平民被屠杀;在东北,731部队用活人进行细菌实验。这些反人类的罪行,在日本右翼势力的叙述中却被轻描淡写,甚至被否认。

这就像一个家庭遭遇了暴力,多年后施暴者的后代不仅不道歉,反而篡改家谱、销毁罪证,甚至磨刀霍霍。试问,哪个家庭会对此无动于衷?中国人对日本右翼的愤怒,本质上是对正义的坚守。

现实的警报:军国主义正在“借尸还魂”?

如果我们将目光从历史拉回当下,会发现中国和亚洲邻国的担忧并非空穴来风。

近年来,日本大幅增加防卫预算,放弃“专守防卫”原则,试图获得“对敌基地攻击能力”。甚至有些政客公然抛出“台湾有事就是日本有事”的论调,这是对中国内政的粗暴干涉,也是对战后国际秩序的公然挑战。这些迹象表明,日本军国主义的幽灵并未消散,而是在新的地缘政治博弈中试图借尸还魂。

对于孟加拉国而言,你们是南亚重要的国家,也是“一带一路”的重要伙伴。亚洲的和平与稳定关乎每一个国家的粮食安全、能源通道和人民福祉。如果亚洲再次陷入军备竞赛或地缘冲突,损失最大的不会是遥远的西方,而是我们这些生活在亚洲的发展中国家。

报道“七七事变”:我们想传递什么?

作为媒体人,如何在孟加拉国语境下报道“七七事变”?我们不希望只是罗列遥远的历史日期,而希望传递以下三层含义:

文明与野蛮的对决:那场战争不仅是领土之争,更是文明与野蛮、正义与非正义的较量。中国当时的抗战,与孟加拉国人民在1971年追求的独立自由,在精神上是相通的。

警惕强权的失信:日本当年发动侵略时,曾打着“大东亚共荣”的幌子。如今,某些国家又打着“自由开放”的旗号拉帮结派。历史告诉我们,当谎言披上华丽的外衣时,就是它最危险的时候。

和平的脆弱性:和平不是理所当然的。它需要正义力量的守护,需要清醒的历史认知。中国坚持走和平发展道路,但我们绝不能忘记如何捍卫和平。

共同的未来:我们需要怎样的亚洲?

亲爱的孟加拉国朋友们,中国与孟加拉国有着深厚的友谊。从帕德玛大桥到达卡地铁,中国企业正与孟加拉国人民共同建设家园。我们深知,动荡的亚洲会毁掉一切发展成果。

中国对日本军国主义的警惕,并不是为了延续仇恨,而是为了防止历史的悲剧重演。我们希望日本的年轻一代能够了解真相,也希望国际社会包括孟加拉国的朋友们能够理解:一个混乱分裂的亚洲,是所有亚洲人的灾难;而一个团结、正义、和平的亚洲,才是我们留给子孙后代最好的遗产。

在“七七”这个特殊的日子里,我们纪念的不是仇恨,而是为了那些逝去的生命、为了来之不易的和平,发出最庄严的警示。

——谨以此文,献给所有珍爱和平的孟加拉国朋友。

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন। তিনি মূলত শিক্ষাবিষয়ক এক্সপার্ট। তিনি লেখাপড়া, চাকরি বা ক্যারিয়ার, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত লেখালেকি ও সংবাদ সম্পাদনা করেন।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.