চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক দিনের একটি ফোরামে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহারে চীনা সভ্যতার পরিসর ও আকর্ষণ বিশ্বব্যাপী আরও বাড়তে পারে।
বুধবার ‘চীনা সভ্যতার যোগাযোগ শক্তি ও প্রভাব বিষয়ক প্রথম ফোরাম’ শীর্ষক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
ফোরামটি আয়োজন করে বেইজিং ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক চীনা অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট। এতে অংশ নেওয়া চীনা কনফুসিয়াস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিউ সিপিং বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির বড় বাধা দূর করতে পারে এআই। এতে করে চীনা সভ্যতার সঠিক মূল্যবোধ দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে সম্মেলনে কানসু প্রদেশের তুনহুয়াং অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এআই-এর মাধ্যমে ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এখানে এক ক্লিকে প্রাচীন লেখার অনুবাদ, ব্যাখ্যা এবং ভার্চুয়াল সহায়তা পাওয়া যায়। এমনকি প্রাচীন দেয়ালচিত্রকে অ্যানিমেশনে রূপান্তর এবং পুরনো সুরকে আধুনিক সংগীতে পুনর্গঠনের কাজও চলছে।
তবে চীনা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এআই ব্যবহারে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। এতে অ্যালগরিদমের প্রতি নির্ভরতার কারণে সাংস্কৃতিক ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে এবং মৌলিক সাংস্কৃতিক নির্ভুলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বেইজিং ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনোলজি বিভাগের প্রধান সু বাওফেং বলেন, অনেক সময় এআই চীনা সভ্যতার সঠিক বিশ্লেষণ দিতে ব্যর্থ হয়, কারণ বিভিন্ন ভাষার মধ্যে পর্যাপ্ত সমন্বিত মডেল নেই। এই সমস্যার সমাধানে গবেষকরা বিদেশি সিনোলজিস্টদের সঙ্গে যৌথভাবে উন্নত ভাষা-মডেল তৈরি করার কাজ করছেন।
সূত্র: সিএমজি