জুন ২৮, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: পর্যটন, মুক্ত বাণিজ্য, সবুজ উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন মডেল হিসেবে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ প্রদেশ হাইনানকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মিডিয়া ট্যুর "হোয়াই চায়না: ওয়াকিং লিংশুই"।
গত ২১ থেকে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বাংলাদেশসহ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ১২টি দেশের সাংবাদিক, সম্পাদক, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, বিদেশি ব্লগার এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
হাইনান প্রাদেশিক আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় কেন্দ্র এবং লিংশুই লি স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টির স্থানীয় সরকার যৌথভাবে এই সফরের আয়োজন করে। সহযোগিতা করে চায়না নিউজ সার্ভিস (বেইজিং) ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন গ্রুপের হাইনান শাখা এবং লিংশুইয়ের পর্যটন, সংস্কৃতি, বেতার, টেলিভিশন ও ক্রীড়া ব্যুরো।
আয়োজকদের মতে, বিশ্বের অনেক মানুষ এখনও হাইনানকে শুধুমাত্র একটি পর্যটন দ্বীপ হিসেবেই চেনেন। কিন্তু বাস্তবে এটি এখন চীনের উচ্চমানের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ নীতির অন্যতম পরীক্ষাগার এবং মুক্ত বাণিজ্য বন্দরের সফল বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সরেজমিনে হাইনানের বাস্তব চিত্র দেখানোর লক্ষ্যেই এই বিশেষ সফরের আয়োজন করা হয়।
এই সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দক্ষিণ চীন সাগরের তীরে অবস্থিত লিংশুই লি স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টি। সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী এবং লি জাতিগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই অঞ্চল বর্তমানে হাইনানের অন্যতম সম্ভাবনাময় উপকূলীয় উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পর্যটনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সামুদ্রিক অর্থনীতি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নেও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে লিংশুই।
ছয় দিনের সফরে প্রতিনিধিদল ফেনচিয়েচৌ দ্বীপ, তিয়াওলুওশান জাতীয় বন উদ্যান, হাইফেং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন কেন্দ্র, লি'আন আন্তর্জাতিক শিক্ষা উদ্ভাবন পরীক্ষামূলক অঞ্চল, হাইনান ওশান অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড, শুয়াং ফানশি মেরিন স্পোর্টস সেন্টার, ছিওং ইয়া সোভিয়েত সরকারের ঐতিহাসিক স্থান, তানচৌ লোকসংস্কৃতি জাদুঘর, নানওয়ান মাঙ্কি আইল্যান্ড, ট্রপিক্যাল ফরেস্ট এক্সপো পার্ক এবং চিলিং ক্যারেক্টারিস্টিক ভিলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা হাইনানের পরিবেশ সংরক্ষণ, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থা, ডিজিটাল চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্প, উপকূলীয় পর্যটন, জলক্রীড়া এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
সফরে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা জানান, হাইনান সম্পর্কে তাদের পূর্বধারণার তুলনায় বাস্তবে অঞ্চলটি অনেক বেশি সম্ভাবনাময়। তাঁদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক পর্যটন, উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার যে উন্নয়ন মডেল হাইনান অনুসরণ করছে, তা বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্যও এই অভিজ্ঞতা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনিয়োগ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাইনানের আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্য বন্দর, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের সম্প্রসারণ এবং আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
নাহার/আজাদ