“আমি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি জনগণের কল্যাণে”: প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের রাজনৈতিক পথ ও আদর্শ
সি চিন পিং:
"আমি স্বেচ্ছায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করছি, পার্টির নীতি মেনে চলব, পার্টির গঠনতন্ত্র মেনে চলব..."
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস প্রদর্শনী কেন্দ্রে রাখা একটি বিশেষ স্মারক এক যুবকের দৃঢ় সাম্যবাদী বা কমিউনিস্ট বিশ্বাসের সাক্ষ্য বহন করছে।
১৯৬৯ সালে, ১৬ বছর বয়স সি চিন পিং শায়ানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহ্য গ্রামে কৃষি কাজের জন্য যান। সেখানে কাটানো সাত বছরের যুবজীবন কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তাঁকে বাস্তবমুখী হতে এবং কষ্টসহিষ্ণু মানসিকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। পর পর ১০ বার আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর, ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে স্থানীয় কমিটি তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে এবং তাঁকে দলের একজন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করে।
সি চিন পিং:
"আমার জীবনের প্রথম বাস্তব পদক্ষেপটি শুরু হয়েছিল এই লিয়াংজিয়াহ্য গ্রাম থেকেই। এখানেই আমি আমার জীবনের পথ বেছে নিয়েছিলাম। সেই সময়ই আমি মনে মনে ঠিক করেছিলাম যে, ভবিষ্যতে যদি কখনো সুযোগ বা পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে আমি রাজনীতিতে আসব এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করব।"
একটি বিপ্লবী পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে সি চিন পিং ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক ঐতিহ্যের লাল চেতনায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। লিয়াংজিয়াহ্য গ্রামে থাকার সময় তিনি মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী সাহিত্য মন দিয়ে পড়তেন। বহু বছর পর সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছিলেন:
"বই পড়ার এবং ক্রমাগত তা নিয়ে ভাবার প্রক্রিয়ায় আমি বুঝতে পেরেছি যে, মার্ক্সবাদই প্রকৃত সত্য। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বই হলো এ দেশের জনগণের এবং ইতিহাসের আসল বাছাই। আমাদের বেছে নেওয়া সমাজতান্ত্রিক পথই হলো প্রগতির একমাত্র অনিবার্য পথ।"
"সিপিসিতে কেন যোগ দেব? কর্মকর্তা হয়ে কী করব? এবং ভবিষ্যতের জন্য কী রেখে যাব?"—লিয়াংজিয়াহে গ্রাম ছাড়ার আগেই সি চিন পিং তাঁর জীবনের এই দৃঢ় লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিলেন।
সি চিন পিং:
"সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ এবং ভালো-মন্দ সবসময় অন্তরে রাখতে হবে। জনগণের কল্যাণ সাধন করাই যেন একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়।"
(সি চিন পিং): "সবার পেট ভরে খাওয়া এবং গায়ে দেওয়ার মতো গরম কাপড়ের ব্যবস্থা ঠিকঠাক হয়েছে তো?"
(সি চিন পিং): "আপনাদের সবার কি স্বাস্থ্যবিমা আছে?"
"আমি আপনাদের সবার সাথে দেখা করার জন্য বিমান, ট্রেন এবং সবশেষে গাড়ি—এই তিন ধরনের যানবাহন পরিবর্তন করে তবেই আপনাদের এই গ্রামে এসে পৌঁছেছি।"
(সি চিন পিং): "কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া নীতি বা পদক্ষেপগুলো আপনাদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে নাকি কান্না নিয়ে আসছে, তা দেখতেই আমি এসেছি। যদি আপনাদের চোখে পানি থাকে, তবে আমাদের সতর্ক হতে হবে এবং যা কিছু সংশোধন করা প্রয়োজন, তা আমাদের অবশ্যই সংশোধন করতে হবে।"
(সি চিন পিং): "কমিউনিস্ট পার্টি হলো জনগণের পার্টি, যা সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে। যখন দেখি সাধারণ মানুষের জীবন উন্নত হচ্ছে, তারা সমৃদ্ধ হচ্ছে, তাদের হাতে পর্যাপ্ত টাকা আছে, শিশুরা ভালো শিক্ষা পাচ্ছে এবং বয়স্কদের চিকিৎসা নিশ্চিত হচ্ছে—তখন আমাদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ হয়।"
গত কয়েক দশক ধরে, তিনি যেখানেই থেকেছেন বা যে পদেই অধিষ্ঠিত হয়েছেন না কেন, সি চিন পিং সবসময় একজন কমিউনিস্টের রাজনৈতিক সততা ও আদর্শ বজায় রেখেছেন; জনগণের স্বপ্ন এবং প্রত্যাশাকেই নিজের কাজের চালিকাশক্তি বানিয়েছেন।
সিপিসি’র অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে সি চিন পিংয়ের পদচিহ্ন চীনের উত্তর থেকে দক্ষিণে, প্রতিটি প্রান্তের সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। সবকিছুর মাঝে জনগণের সুখী জীবন নিশ্চিত করাই হলো সরকারের প্রধান কাজ।
সি চিন পিং:
"আমাদের দলীয় কর্মী এবং বিশেষ করে নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তাদের সবসময় এটি স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে যে—আমাদের হাতে থাকা ক্ষমতা এবং আমাদের পদগুলো পার্টি ও দেশের সাধারণ মানুষ আমাদের দিয়েছেন। এই ক্ষমতা কেবলই জনগণের সেবা এবং তাদের কল্যাণের স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে।"
নতুন যুগের সূচনালগ্ন থেকে, সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে থাকা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি "লোহা কাটতে হলে নিজেকেই শক্ত হতে হবে"- এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যা পুরো দলের আধ্যাত্মিক ভিত্তিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
২০১৭ সালে সিপিসির ১৯তম পার্টি কংগ্রেস শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পর 'কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেসের স্মৃতিসৌধে' এবং ২০২১ সালে শতবর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে 'পার্টির ইতিহাস প্রদর্শনী কেন্দ্রে'—প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দুইবার দলীয় নেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক দলীয় শপথবাক্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
"আমি স্বেচ্ছায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করছি, পার্টির নীতি মেনে চলব, পার্টির গঠনতন্ত্র মেনে চলব, সদস্য হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করব..."
"চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সর্বদা সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে এবং জনগণের সাথে সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে জীবন-মরণ একসাথে অতিবাহিত করে।"
পার্টিতে কাটানো দীর্ঘ ৫২ বছর; একটি ছোট উৎপাদন দলের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে আজ দেশ ও দলের সর্বোচ্চ নেতা হওয়া পর্যন্ত—"গ্রামবাসীদের পাতে এক টুকরো মাংস তুলে দেওয়ার" সাধারণ স্বপ্ন থেকে শুরু করে আজ "চীনা জাতির মহান স্বপ্ন" বাস্তবায়নের মহানায়ক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাটির বুক থেকে উঠে আসা সেই তরুণ আজ নিজের সবকিছু দেশের মানুষ ও দলের চরণে উৎসর্গ করেছেন এবং প্রতিনিয়ত তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি প্রমাণ করে চলেছেন—"আমি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি, যেন দেশের জনগণের কোনো ক্ষতি না হয়" ।