ঢাকা, জুলাই ১ , সিএমজি বাংলা : চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক লং মার্চের বিজয়ের ৯০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘মহান যাত্রা, অভিন্ন ভবিষ্যৎ’। বুধবার বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাও ফেং, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ-এর ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তূজা, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন অঙ্গনের অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘ ১০৫ বছরের পথচলা, লং মার্চের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং আধুনিক চীন গঠনে এর ভূমিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে চীনের অভিজ্ঞতা ও অর্জন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাও ফেং বলেন, লং মার্চ শুধু চীনের বিপ্লবী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে চীনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের কল্যাণ, আত্মনির্ভরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন।
তিনি আরও বলেন, লং মার্চের সাহস, অধ্যবসায় ও আত্মত্যাগের চেতনার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রম, সহনশীলতা এবং আত্মউন্নয়নের মানসিকতার গভীর মিল রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমেই দুই দেশের জনগণ একে অপরের সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে আরও ভালোভাবে জানতে পারে। আজকের ভিডিও ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বই, সঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে একটি প্রাণবন্ত ও বাস্তব চীনকে তুলে ধরা হয়েছে, যা দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।
ইউল্যাবের ভাইস চ্যান্সেলর শামসাদ মর্তূজা বলেন, "আধুনিকায়ন মানেই অন্ধ অনুকরণ নয়, আর উন্নয়ন মানেই নিজের সংস্কৃতিকে বিস্মৃত হওয়া নয়। প্রকৃত অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন তা নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।"
তিনি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, প্রতিটি দেশের আধুনিকায়নের পথ তার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও উন্নয়নের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চীনের যেমন লং মার্চ রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেরও রয়েছে ত্যাগ, সংগ্রাম ও আশার এক গৌরবময় যাত্রা। তরুণদের উদ্দেশে তিনি শৃঙ্খলা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগের গুরুত্ব অনুধাবনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, একটি "ভবিষ্যতের বিশ্ববিদ্যালয়" গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইউল্যাব আন্তর্জাতিকীকরণ, ভাষা শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের সঙ্গে সহযোগিতা যেমন শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ করছে, তেমনি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করছে। ইউল্যাবকে বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির মিলনমেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ড. ইয়াং হুই। তিনি বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিনিময়ই দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বকে আরও গভীর করতে পারে।
দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চীনা ক্যালিগ্রাফি, পেপার কাটিং প্রদর্শনী এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চীনের ইতিহাস, শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভের সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাও ফেং ‘ফ্যা স্টোরি অব দ্যা কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না’ শীর্ষক একটি বিশেষ বক্তৃতা প্রদান করেন। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অতিথিরা অংশ নেন। বক্তৃতায় তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস, আদর্শ, উন্নয়নযাত্রা এবং সমসাময়িক চীনের অগ্রগতিতে দলটির ভূমিকা তুলে ধরেন।
আফরিন মিম
সিএমজি বাংলা