Saturday, July 4, 2026
Live

ই উ কীভাবে পারল?

মাহফুজ রহমান
মাহফুজ রহমান ডেস্ক সম্পাদক
Published: Updated:
ই উ কীভাবে পারল?

সিয়ে নান আকাশ, সিএমজি, বেইজিং

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উন্মাদনা। জার্সি, পতাকা থেকে শুরু করে নানা ধরনের খেলনার চাহিদাও বেড়ে যায়। অনেকেই হয়তো জানেন না, বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট পণ্যের ৭০ শতাংশেরও বেশি যোগান আসে চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চ্যচিয়াং প্রদেশের ই উ শহর থেকে।

গত চার দশকে এক বিস্ময়কর অর্থনৈতিক রূপান্তরের সাক্ষী ই উ। এক সময়ের দারিদ্র্যপীড়িত একটি কাউন্টি আজ বিশ্বের ক্ষুদ্র পণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার। মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যই এখানে পাওয়া যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে ই উ যেন এক সুবিশাল ‘বিশ্ব সুপারমার্কেট’।

২০২৬ সালের শুরুতে ই উ’র ক্ষুদ্র পণ্যের বাজারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ লাখ ক্রেতা আসেন। এখানকার ২১ লাখেরও বেশি ধরনের পণ্য বিশ্বের ২৩০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানি হয়। গড়ে প্রতি মিনিটে ২৬ হাজারেরও বেশি এক্সপ্রেস পার্সেল চলে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।

কীভাবে এটি সম্ভব করল ই উ? কয়েকটি বাস্তব গল্পেই মিলবে উত্তর।

চাং ছুই ইয়ান একসময় ইংরেজি জানতেন না। বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পর্কেও ছিল না কোনো অভিজ্ঞতা। ২০১৭ সালে তিনি পরিবারসহ ই উ’তে আসেন। গাড়ি ও গৃহস্থালি সরঞ্জাম মেরামতের যন্ত্রপাতির ব্যবসা শুরু করেন তিনি। তার বিশ্বাস—কোনো কাজ করলে তাতে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে। এখন তার প্রতিষ্ঠান একাধারে গবেষণা, উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রিসহ পুরো শিল্পশৃঙ্খল পরিচালনা করছে। বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে তাদের এজেন্ট আছে।

আরেক উদ্যোক্তা ছেন চিয়া সেং। ৯০’র দশকে ব্যবসায় কিছু মুনাফা অর্জনের পর নিজের গ্রামের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। পরে গ্রামের পার্টি শাখার সচিব নির্বাচিত হন। সেখানে তিনি পোশাকশিল্প গড়ে তোলেন, অবকাঠামোর উন্নয়ন করেন এবং প্রবীণদের জন্য আবাসন নির্মাণ করেন। এখন তার গ্রামটি ‘শার্ট গ্রাম’ নামে পরিচিত। সেখানে প্রায় ১০০টি পোশাক কারখানা রয়েছে এবং গ্রামের বাসিন্দাদের মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ৬৫ হাজার ইউয়ান।

ই উ’র ছিমিংশান আবাসিক এলাকাকে অনেকেই ‘জাতিসংঘ আবাসিক কমিউনিটি’ বলে থাকেন। প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি বিদেশি, যারা ৭৪টি দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন।

নেপালের ব্যবসায়ী রাজকুমার ২০০২ সালে ই উ’তে আসেন। দুই দশকেরও বেশি সময় এখানে বাস করছেন তিনি। ই উ’কেই নিজের বাড়ি মনে করেন তিনি। স্থানীয় কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করছেন রাজকুমার। অর্জন করেছেন সবার আস্থা।

ই উ’র এই সাফল্য মূলত চীনের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিফলন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকরা এখানকার উচ্চগতির রেল তো বটেই, সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা, উদ্ভাবন ও দৃঢ়চেতা মনোভাব দেখেও হয়ে যান দারুণ মুগ্ধ।

সিএমজি

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন। তিনি মূলত শিক্ষাবিষয়ক এক্সপার্ট। তিনি লেখাপড়া, চাকরি বা ক্যারিয়ার, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত লেখালেকি ও সংবাদ সম্পাদনা করেন।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.