চীনা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু সৃষ্টি রয়েছে, যা কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিক বেদনার গভীর দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৯৩ সালে নির্মিত পরিচালক ছেন খাইকের কালজয়ী চলচ্চিত্র ফেয়ারওয়েল মাই কনকিউবাইন তেমনই এক অনন্য শিল্পকর্ম।
লিলিয়ান লি-এর একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে বিংশ শতাব্দীর অস্থির চীনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডিকে অসাধারণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
১৯২৪ সালের বেইজিংয়ে পতিতা মায়ের পরিত্যক্ত ছেলে তৌচি অপেরা দলে বড় হয় এবং শিতোর সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। বড় হয়ে তারা বিখ্যাত পিকিং অপেরা শিল্পী হন। তৌচি হন চেং তিয়েয়ি এবং শিতো হন তুয়ান সিয়াওলু। ‘ফেয়ারওয়েল মাই কনকিউবাইন’ নাটকে তিয়েয়ি উপপত্নী ইউ ও সিয়াওলু শিয়াং ইউ-এর চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করে।
তিয়েয়ি গোপনে সিয়াওলকে ভালোবাসেন। কিন্তু সিয়াওলু চুশিয়ান নামে একজন বারবনিতাকে বিয়ে করেন, যা তাদের সম্পর্কের কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্বে পরিণত হয়।
নাটকে তাদের অভিনয় কিংবদন্তিতে পরিণত হলেও বাস্তব জীবনে অপূর্ণ প্রেম, ঈর্ষা ও বিচ্ছেদ তাদের সম্পর্ককে ক্রমেই জটিল করে তোলে।
চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। বহু বছর পর একবার ‘ফেয়ারওয়েল মাই কনকিউবাইন’ মঞ্চস্থ করার সময়
শেষ দৃশ্যে তিয়েয়ি তলোয়ার দিয়ে আত্মহত্যা করে উপপত্নী ইউ-এর ভাগ্যকে বরণ করেন, আর সিয়াওলু তাকে তার শৈশবের নাম ‘তৌচি’ বলে ডেকে ওঠেন।
তিয়েয়ির মৃত্যু যেন শিল্পের প্রতি চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ, একই সঙ্গে অপূর্ণ প্রেমেরও শেষ পরিণতি।
চলচ্চিত্রটি শুধু দুই শিল্পীর গল্প নয়; এটি আধুনিক চীনের ইতিহাসেরও এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। জাপানি আগ্রাসন, গৃহযুদ্ধ, কমিউনিস্ট বিপ্লব এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অভিঘাতে শিল্পীজীবন কীভাবে বিপর্যস্ত হয়, তা এখানে মর্মস্পর্শীভাবে ফুটে উঠেছে।
তামান্না জেনিফার
সিএমজি বাংলা।