ঢাকা, ২৮ জুন, সিএমজি বাংলা: স্নায়ুযুদ্ধের সময় চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকং কেবল একটি ব্রিটিশ উপনিবেশই ছিল না, বরং এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (পিআরসি) ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের প্রতিযোগিতা হংকংয়ের চলচ্চিত্র শিল্প ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
রোববার ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) একটি একাডেমিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন চীনের গবেষক ও ইস্ট চায়না নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা বিভাগের অধ্যাপক ইং তু। সেমিনারটির আয়োজন করে সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ এবং ইংরেজি ও মানবিক বিভাগ।
s
অধ্যাপক ইং তু বলেন, ১৯৫০-এর দশকে হংকং ছিল এমন একটি অনন্য স্থান, যেখানে ব্রিটেন, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন, চীনের তাইওয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষই চীনা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর ওপর সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। তবে এই প্রতিযোগিতায় সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারণার পরিবর্তে বিনোদনমূলক চলচ্চিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি জানান, পিআরসি হংকংকে বিদেশে বসবাসকারী চীনাদের কাছে নতুন সমাজতান্ত্রিক চীনের ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি জানালা হিসেবে ব্যবহার করেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হংকংকে চীনা ভাষার চলচ্চিত্র ও তথ্য প্রচারের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে।
গবেষণায় দেখা যায়, পিআরসি-সমর্থিত বামপন্থী চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো ১৯৫০-এর দশকে শুধু হংকং নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এসব চলচ্চিত্রে সমাজতান্ত্রিক প্রযোজনা কাঠামো অনুসরণ করা হলেও সেগুলোকে কেবল আদর্শিক প্রচারণায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; বরং দর্শক আকর্ষণের জন্য বিনোদনমূলক উপাদানও যুক্ত করা হয়।
অধ্যাপক ইং তু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে তারা চলচ্চিত্র খাত থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে শিক্ষা, নাগরিক সমাজ এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দেয়।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ হংকং সরকারের চলচ্চিত্র সেন্সরশিপ মূলত রাজনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কিছুটা শিথিল হয়। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় চলচ্চিত্রে ধীরে ধীরে স্থান পেতে শুরু করে।
গবেষণার উপসংহারে অধ্যাপক ইং তু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পিআরসি কোনো পক্ষই দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ সফলতা অর্জন করতে পারেনি। বরং প্রতিযোগিতার ফলে হংকংয়ে বিপুল বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ নির্মাতা এবং বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। এর ফলেই হংকং বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক মিলন কুমার ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ যেমন অতীতে উপনিবেশিক শাসনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তেমনি হংকংও দীর্ঘদিন বিভিন্ন শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রভাবের মধ্যে ছিল। তাই হংকংয়ের সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও চলচ্চিত্র নিয়ে এই আলোচনা বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ১৯৫০-এর দশকের চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, সমসাময়িক হংকং সিনেমা এবং চলচ্চিত্র সেন্সরশিপের বিবর্তন নিয়ে অধ্যাপক ইং তুর কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
নাহার/হাশিম
তথ্য ও ছবি-সিএমজি বাংলা।