Wednesday, June 10, 2026
Live
খবর
Verified
6 min read

৪৫ তম বিসিএস আবেদনের নিয়ম ও ক্যাডার চয়েস যেভাবে

মাহফুজ রহমান
মাহফুজ রহমান ডেস্ক সম্পাদক
Published: Updated:
৪৫ তম বিসিএস আবেদনের নিয়ম ও ক্যাডার চয়েস যেভাবে

৪৫ তম বিসিএস আবেদনের নিয়ম ও ক্যাডার চয়েস নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে। ৪৫তম বিসিএসের আবেদনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২২ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অনলাইনে ফরম পূরণ করতে গিয়ে নতুন প্রার্থীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। পদের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা উল্লেখ করে গত ৩০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি)। অনলাইনে ক্যাডার পদে যেমন পছন্দ নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়, তেমনই নন-ক্যাডার পদেও পছন্দের তালিকা নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন প্রার্থীরা।

  • ৪৫ তম বিসিএসে ২ হাজার ৩০৯ জন ক্যাডার নেওয়া হবে। নন-ক্যাডারে নেওয়া হবে ১ হাজার ২২ জনকে।

অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম

৪৫তম বিসিএসে আবেদনের জন্য এই ওয়েবসাইটে (http://bpsc.teletalk.com.bd) গিয়ে Online Application for 45th BCS অপশনে ক্লিক করে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এখানে জেনারেল ক্যাডার, টেকনিক্যাল/ প্রফেশনাল ক্যাডার ও উভয় ক্যাডার—এই তিন অপশন থেকে কাঙ্ক্ষিত অপশনে ক্লিক করলে অনলাইন আবেদনের প্রথম পাতা দৃশ্যমান হবে। অন্য প্রার্থীকে অনুকরণ বা দোকান থেকে আবেদন ফরম পূরণ করলে বা বিস্তারিত না জেনে আবেদন করলে, চাকরিজীবনে আফসোস করতে হতে পারে। তাই আবেদনের পূর্বে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো বিস্তারিত জেনে নিন।

১ম পাতা : ব্যক্তিগত তথ্য

  • এই অংশে প্রার্থীর নিজের নাম, মায়ের নাম, বাবার নাম ও জন্মতারিখ এসএসসি সনদে যেভাবে আছে সেভাবেই লিখতে হবে। এসএসসির সনদে না থাকলে মা-বাবার নামের আগে নতুন করে মৃত/ হাজি/ অন্য কোনো নতুন শব্দ লেখা যাবে না। জন্মতারিখ ভুল লিখলে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা আছে।

  • প্রার্থী ক্ষুদ্রজাতি গোষ্ঠী অথবা প্রতিবন্ধী হলে নির্ধারিত অপশন থেকে সেগুলো নির্বাচন করতে হবে। প্রার্থীর উচ্চতা ও বুকের মাপ সেন্টিমিটারে কনভার্ট করে লিখতে হবে। ওজন আনুমানিক হলেই হবে (দুই থেকে চার কেজি কমবেশি হতে পারে)। মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগে প্রার্থীকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক থেকে ওজন ও উচ্চতার প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে কোনো ক্যাডারের ওজন ও উচ্চতার আবশ্যিক শর্তের সঙ্গে প্রার্থীর ওজন ও উচ্চতা না মিললে, সেই ক্যাডার পছন্দক্রমে রাখা ঠিক হবে না।

  • এমপ্লয়মেন্ট স্ট্যাটাসে প্রার্থী বেকার হলে নট এমপ্লয়মেন্ট, রাজস্ব খাতের সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকলে রেগুলার বেসিস আন্ডার রেভিনিউ বাজেট, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে অটোনোমাস বা সেমি–অটোনোমাস অর্গানাইজেশন, বেসরকারি হলে প্রাইভেট সিলেক্ট করতে হবে। এই অংশে প্রার্থী চাকরিজীবী হলে মৌখিক পরীক্ষার সময় বিভাগীয় ছাড়পত্র, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরমে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের তথ্য পূরণসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

  • বর্তমান আর স্থায়ী ঠিকানা সম্ভব হলে অভিন্ন দেওয়াই ভালো। তাহলে প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর তখন এক ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানায় বাবার ঠিকানা ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। আপনার দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে বিসিএসের সব প্রক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট তথ্য খুদে বার্তার মাধ্যমে জানানো হতে পারে।

  • পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে যে স্থানের নাম নির্বাচন করা হবে, সে কেন্দ্রেই প্রার্থীকে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরবর্তী সময় কেন্দ্র পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তবে সব প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি কর্ম কমিশন কার্যালয়ে হবে।

  • প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ইংরেজি ভার্সনে দিতে ইচ্ছুক হলে ইংরেজি অপশনে টিক চিহ্ন দিতে হবে। তবে লিখিত পরীক্ষা প্রার্থী ইচ্ছেমতো যেকোনো ভার্সনে দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে এক বিষয়ের পুরো খাতা যেকোনো এক (বাংলা/ ইংরেজি) ভাষায় লিখতে হবে।

২য় পাতা : শিক্ষাগত যোগ্যতা

  • এই অংশে প্রার্থীর এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের (যদি থাকে) তথ্যগুলো প্রার্থীর সার্টিফিকেট দেখে দেখে লিখলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। স্নাতকে পঠিত বিষয়/ ডিগ্রি অপশনে প্রার্থীর ডিগ্রি বা বিষয়ের নাম না থাকলে আদারস অপশনে সাবজেক্টের নাম লিখতে হবে।

  • প্রার্থীর স্নাতক বিষয়ের ওপর তাঁর জন্য প্রযোজ্য ক্যাডার ও নন-ক্যাডার তালিকা দৃশ্যমান হবে (তাই অপশনে উল্লেখিত বিষয়গুলো থেকে প্রার্থীর বিষয় নির্বাচন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রফেশনাল ক্যাডার/ নন-ক্যাডার দৃশ্যমান না–ও হতে পারে)। অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে পরীক্ষা শুরু ও শেষের তারিখ লিখতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র ভাইভা পরীক্ষার দিন বোর্ডে জমা দিতে হবে।

৩য় পাতা : ক্যাডার অপশন

এই অংশে ওপরে দৃশ্যমান ক্যাডার তালিকা থেকে প্রার্থীর পছন্দ অনুযায়ী নিচে পছন্দক্রম সাজাতে হবে। এই অংশ পূরণের আগে অবশ্যই সব ক্যাডার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেবেন। ক্যাডার তথ্য জানা না থাকায় এই অংশে বেশির ভাগ প্রার্থী ভুল করে পরে আফসোস করেন।

সংবাদপত্র, ইন্টারনেট ও বাজারে প্রচলিত বিসিএস তথ্যভিত্তিক বই থেকে সব ক্যাডার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন। শূন্য পদের সংখ্যানুযায়ী নয়, আপনার পছন্দের চাকরির ধরন অনুযায়ী ক্যাডার পছন্দক্রম সাজাবেন। সব ক্যাডারেরই সমান মর্যাদা; কিন্তু কাজের ক্ষেত্র অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।

৪র্থ পাতা : আবেদন প্রিভিউ

এই অংশে প্রার্থীর পূরণ করা সব তথ্য দৃশ্যমান হবে এবং কোনো ভুলত্রুটি থাকলে এডিট বাটনে ক্লিক করে সংশোধনও করতে পারবেন। অ্যাপ্লিকেন্টস ইন্টারেস্ট ফর নন-ক্যাডার মেন্যুর ৯ম গ্রেড/ ১০ম গ্রেড/ দুটিই/ কোনোটিই নয় অপশন থেকে একটি নির্বাচন করবেন। আপনি বেকার হলে, দুটি অপশন নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এর সঙ্গে প্রার্থীর ৩০০৩০০ পিক্সেলের একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট) ও ৩০০৮০ পিক্সেলের একটি স্বাক্ষর (সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট) নির্ধারিত বক্সে আপলোড করে আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দিতে হবে। বিসিএসের সব প্রক্রিয়ায় প্রার্থীকে আবেদনের স্বাক্ষর ব্যবহার করতে হবে।

৫ম পাতা : নন-ক্যাডার অপশন

৪৫তম বিসিএসে প্রথমবারের মতো এই অংশ রয়েছে। প্রার্থীর পছন্দক্রম অনুযায়ী নন-ক্যাডার তালিকা তৈরি করতে হবে। ক্যাডারের মতো নন-ক্যাডার চয়েসের সময়ও নন-ক্যাডার চাকরিগুলোর বিস্তারিত জেনে এই অংশ পূরণ করুন। সংবাদপত্র, ইন্টারনেট ও বাজারে প্রচলিত বিসিএস তথ্যভিত্তিক বই থেকে নন-ক্যাডার পদগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন। একই গ্রেডের সব নন-ক্যাডারেরই সমান মর্যাদা; কিন্তু কাজের ক্ষেত্র অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।

৬ষ্ঠ পাতা: আবেদনকারীর কপি

আবেদন চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার পর ইউজার আইডি সংবলিত একটি অ্যাপ্লিকেন্টস (আবেদনকারী) কপি দৃশ্যমান হবে। অ্যাপ্লিকেন্টস কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে। ইউজার আইডি ব্যবহার করে যথাযথ নির্দেশনা অনুসরণ করে টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। ফি জমাদান সম্পন্ন হলে টেলিটক থেকে একটি পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রার্থীর প্রবেশপত্র ডাউনলোড ও সংরক্ষণ করতে হবে।

৪৫তম বিসিএসের বিশেষ দিক

প্রথমবারের মতো ৪৫তম বিসিএসে আবেদন সময়সীমা মাত্র ২১ দিন। দুটি জেনারেল ক্যাডারে (তথ্য ও বাণিজ্য) ৪৫তম বিসিএসে কোনো শূন্য পদ নেই। শুল্ক ও আবগারি ক্যাডারে ৫৪ পদের বিজ্ঞপ্তি (৩১তম-৪০তম বিসিএসের মধ্যে দীর্ঘদিন এই ক্যাডারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি) এবং কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারেও উল্লেখযোগ্য পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে (এই ক্যাডারেও দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বন্ধ ছিল)।

প্রথমবারের মতো পরিবার পরিকল্পনার কারিগরি ক্যাডার পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (৪৪১টি শূন্য পদ) দেওয়া হয়েছে। নন-ক্যাডার গ্রেড–৯ থেকে গ্রেড–১২ পদের নাম ও পদসংখ্যা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো ক্যাডারের পাশাপাশি নন-ক্যাডার পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

৪৫ তম বিসিএসে কোন ক্যাডারে কত জন?

স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৫৩৯ জন (সহকারী সার্জন ৪৫০ জন ও ডেন্টাল সার্জন ৭৯ জন)
শিক্ষা ক্যাডারে ৪৩৭ জন
প্রশাসন ক্যাডারে ২৭৪ জন
পুলিশ ক্যাডারে ৮০ জন
কাস্টমস ক্যাডারে ৫৪ জন
আনসার ক্যাডারে ২৫ জন
কর ক্যাডারে ৩০ জন এবং
পররাষ্ট্র, বন, রেল, কৃষি, মৎস্যসহ বাদবাকি ক্যাডারে ৮৭০ জন নেওয়া হবে।

সূত্র : প্রথম আলো, লেখক : রবিউল আলম [২৩-১২-২০২২]

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন। তিনি মূলত শিক্ষাবিষয়ক এক্সপার্ট। তিনি লেখাপড়া, চাকরি বা ক্যারিয়ার, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত লেখালেকি ও সংবাদ সম্পাদনা করেন।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.