বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের নতুন পোশাক নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পরিবর্তে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি করা সময়োপযোগী ও অধিক কার্যকর উদ্যোগ হবে।
গত সোমবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।
নতুন পুলিশ ইউনিফর্ম নিয়ে আপত্তি
বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ পুলিশের জন্য যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া এবং সদস্যদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। জনমত যাচাই ছাড়াই নির্বাচিত এই ইউনিফর্মের সঙ্গে অন্যান্য ইউনিফর্মধারী সংস্থার পোশাকের সাদৃশ্য থাকায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সহজে চিহ্নিত করা কঠিন হতে পারে।
সংগঠনের দাবি, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পক্ষে নন এবং বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে।
পুলিশ পোশাকের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট
বিবৃতিতে পুলিশ ইউনিফর্মের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আগের পোশাক নির্ধারণ করে। সে সময় আবহাওয়া, দিন-রাতে দায়িত্বপালনের সুবিধা, দৃশ্যমানতা, সদস্যদের গায়ের রং এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েশন জানায়, আগের ইউনিফর্মটি বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পুলিশের ভূমিকা
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা আগের পোশাক পরেই দায়িত্ব পালন করেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে তাঁদের পেশাদার ভূমিকা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
ইউনিফর্ম পরিবর্তনে ব্যয় ও বিকল্প প্রস্তাব
সংগঠনের মতে, পুলিশ পোশাক পরিবর্তন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া, যা বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই নতুন ইউনিফর্ম তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে—
-
বাহিনীর আধুনিকায়ন।
-
থানায় যানবাহন সরবরাহ বৃদ্ধি।
-
লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা জোরদার।
-
সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন।
—এসব খাতে বিনিয়োগ করাই অধিক জরুরি।
বিবৃতিতে বলা হয়, পোশাকের রং বা নকশার চেয়ে পুলিশ সদস্যদের মানসিকতা, মনোবল এবং পেশাদারত্ব উন্নয়নই এখন সময়ের দাবি।
সরকারের প্রতি আহ্বান
শেষে সরকারের প্রতি ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের আবেগ, বাস্তব প্রয়োজন এবং জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে আরও গবেষণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।