প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছর পেরিয়ে ৪৭ বছর পদার্পণ করল স্বাধীন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। শিক্ষার্থীদের হাত ধরে বর্ণিল সাজ ও আলপনায় সজ্জিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ চত্ত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ,হলগুলো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সমূহ। ২২ নভেম্বর ২০২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনা ও অনেক প্রত্যাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনা তুলে ধরছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এম. রেজাউল ইসলাম রাকিব।
Table of Contents
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আজ ৪৭ বছরে
স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সম্ভাবনার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়ে। তবুও বাস্তবতা হলো—অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পরে প্রতিষ্ঠিত হয়েও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে, এগিয়ে গেছে। আর আমরা আজও কিছু মৌলিক বিষয়—বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের অস্পষ্টতা, সার্টিফিকেট উত্তোলনে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা—এসব নিশ্চিত করতে পারিনি। এটা নিঃসন্দেহে হতাশার। তবুও আশা আছে।আমরা চাই—ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, মান, মর্যাদা ও অর্জনে শীর্ষে উঠুক। ইবি, তুমি আমাদের পরিচয়—তোমার অগ্রযাত্রা আরও শক্ত হোক। এগিয়ে যাও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। 💚
আশরাফুল আলম, আল ফিকহ অ্যান্ড ল' বিভাগ।
“উন্নত ক্যাম্পাসের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক”
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছর পদার্পণেরএই বিশেষ দিনে আমাদের মনে ভর করে আছে নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা আরও উন্নত, আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার আকাঙ্ক্ষা। একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও শিক্ষার্থী বান্ধব ক্যাম্পাস।অধিক আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, পর্যাপ্ত মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা এবং হেমন্ত-গ্রীষ্ম-বর্ষা নির্বিশেষে ব্যবহারযোগ্য একটি উন্নত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি—এসব প্রত্যাশাব্যক্ত করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট । ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা, সবুজায়ন এবং নতুন শিক্ষাভবন নির্মাণ সম্পর্কেও রয়েছে আমাদের ব্যাপক আশা। উন্নতমানের গবেষণাগার, আধুনিক যন্ত্রপাতি, গবেষণার তহবিল বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের বিস্তার। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাত্রা শুভ হোক— "উন্নত ক্যাম্পাস, উন্নত শিক্ষা—একটি সোনালি ভবিষ্যৎ গড়ার বিশ্ববিদ্যালয়।” প্রিয় ১৭৫ একর, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৪৭ বছরে আরো এগিয়ে যাক।
আনিকা ইসলাম, শিক্ষার্থী: ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
"ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হোক ডিজিটালাইজড আধুনিক ক্যাম্পাস"
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের প্রত্যাশা বিশ্বায়নের যুগে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক ডিজিটালাইজড একটি স্মার্ট ক্যাম্পাস । ডিজিটাল ক্লাসরুম ও স্মার্ট লার্নিং ব্যবস্থাকরণ।ই-লাইব্রেরিতে সমৃদ্ধ গবেষণার পথ উন্মুক্ত হবে শিক্ষার্থীরা একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল লাইব্রেরির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করছি। এতে থাকবে অনলাইন জার্নাল অ্যাক্সেস, ই-বুক, গবেষণা ডেটাবেজ, থিসিস আর্কাইভসহ ২৪ ঘণ্টা ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল রিসোর্স। সমন্বিত স্টুডেন্ট পোর্টাল—সেবা পাওয়া হবে দ্রুত ও স্বচ্ছ: একটি সমন্বিত স্টুডেন্ট পোর্টাল শিক্ষা-প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও সহজতার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।ডিজিটাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক শিক্ষা, উন্নত গবেষণা ও স্মার্ট ক্যাম্পাসের স্বপ্নের সোপান হয়ে এগিয়ে যাক প্রিয় ক্যাম্পাস।
মেহেরুন্নেসা রুমানা, শিক্ষার্থী : ইংরেজি বিভাগ।
"ক্যাম্পাস হোক শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল"
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ক্যাম্পাস হোক নিশ্চিন্ত মাতৃকোল ৪৭ বছরে পদার্পণে আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস নিরাপত্তাকে স্মার্ট প্রযুক্তির আওতায় আনতে হবে।
যেমন—স্মার্ট আইডি কার্ড,ক্যাম্পাসজুড়ে আধুনিক সিসিটিভি, স্মার্ট গেট সিস্টেম অনলাইন ভিজিটর রেজিস্ট্রি। স্মার্ট হল–ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে অনলাইন ডাক্তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড, স্মার্ট হল অ্যাক্সেস, অনলাইন সিট আবেদন, হল–সংক্রান্ত নোটিশ ও অভিযোগ ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপ। এগুলো চালু করত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে গৌরব ও অর্জনে এগিয়ে যাবে প্রিয় বিদ্যাপীঠ।
রায়হান খান সাগর, শিক্ষার্থী: ল এন্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ।
"ভিন্নতার ভিতরেও ঐক্যবদ্ধ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা"
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যেখানে সংঘাত, দখল ও প্রভাব বিস্তারই রাজনীতির প্রধান চিত্র হয়ে উঠেছে, সেখানে ইবি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন এক বাস্তবতার উদাহরণ তৈরি করেছে—এখানে ছাত্র রাজনীতি শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, সহাবস্থানেরও। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশকে বিশ্লেষণ করলে তিনটি স্তর স্পষ্ট হয়ে ওঠে: প্রতিযোগিতা, সমন্বয় এবং সাংস্কৃতিক সহাবস্থান। এর মধ্য দিয়েই ইবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি একটি স্বতন্ত্র চরিত্র গড়ে তুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে এই সহাবস্থানের চিত্র আরও তাৎপর্য পাচ্ছে—প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাস আজও ভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি তুলনামূলক শান্ত, সহনশীল ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ ধরে রাখতে পেরেছে। ইবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো সংকট তৈরি হলে তা প্রায়ই অভিন্ন আন্দোলনে রূপ নেয়। পরিবহন সংকট, টিউশন ফি বৃদ্ধি, নিরাপত্তাহীনতা বা যৌন হয়রানির মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে ছাত্রদল থেকে ছাত্র ইউনিয়ন, সাধারণ শিক্ষার্থী—সবাই এক মঞ্চে দাঁড়ানোর উদাহরণ রয়েছে। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির সহাবস্থান বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়— বৈচিত্র্যময় মতাদর্শও সহিংসতা ছাড়াই একসাথে থাকতে পারে।আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে। তাই মতবিরোধের মধ্যেও সংলাপ, সম্মান এবং সহনশীলতা বজায় রাখার এই অভ্যাস বৃহত্তর সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামকার অর্জন সমুন্নত থেকে এগিয়ে যাক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
জিন্নাত মালিয়াত সীমা, শিক্ষার্থী, ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল সাইন্স বিভাগ।
"প্রতিষ্ঠা লক্ষ্যে এগিয়ে যাক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়"
ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় মেধাবী প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। তখন তিনি বলেছিলেন - ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং সারা মুসলিম জাহানের নেতৃত্ব দেবে। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রাচ্যের দেশসমূহের মধ্যে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রয়াস। সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে ইসলামী ভাবধারার পরিচয় ঘটিয়ে সকল মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করে ন্যায়-নিষ্ঠ, নীতিবান, সুনাগরিক গড়ে তুলবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ তম পদার্পণে তার সে অবদানের স্বীকৃতি দিচ্ছি বিনম্র শ্রদ্ধায়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অর্জন আর গৌরবে প্রতিষ্ঠাতার লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে প্রিয় বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
এম. রেজাউল ইসলাম রাকিব, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।
অনুলিখন: ওয়াসিফ আল আবরার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়