জানুয়ারি ১৬, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: দুই বছর আগে প্রথম সিজনে দর্শকদের মন জয় করা অ্যানিমেটেড সিরিজ ‘ইয়াও—চাইনিজ ফোকটেলস’ আবার ফিরেছে। এবার আরও পরিণত, আরও গভীর ভাবনায়। চীনের ভিডিও প্ল্যাটফর্ম বিলিবিলিতে মুক্তি পেয়েছে সিজন–২। এর দর্শকপ্রিয়তা প্রমাণ করছে, লোককথা শুধু অতীত নয়, আধুনিক মানুষের অনুভূতিও ছুঁতে পারে সমানভাবে।
৯ পর্বের নতুন সিজনে সিরিজটির মূল দর্শন অপরিবর্তিত আছে। তা হলো—আধুনিক প্রকাশভঙ্গিতে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। পুরনো প্রতীক, মিথ আর লোকবিশ্বাসের ভেতর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে আজকের মানুষের আত্মপরিচয়, দ্বন্দ্ব ও স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা। প্রতিটি পর্ব আলাদা পরিচালক ও আলাদা কণ্ঠে বলা গল্প—ফলে শৈলী ও বয়ানেও রয়েছে বৈচিত্র্য। সব গল্পকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে পূর্বাঞ্চলীয় নান্দনিকতা ও চীনা ঘরানার ফ্যান্টাসি।
নতুন সিজনের প্রথম পর্ব ‘হাউ টু বিকাম লুংস’ শুরুতেই পরিচয় করিয়ে দেয় একটি গভীর প্রশ্নের সঙ্গে—আমি কে? সাপ ও ড্রাগনের মিথকে অবলম্বন করে এই পর্বে দেখানো হয়েছে আকাঙ্ক্ষা আর আত্মস্বীকৃতির টানাপোড়েন। তিনটি ছোট সাপ ড্রাগন হতে চায়। তারা নিজেদের বদলাতে চায়, অন্যের মতো হতে চায়। কিন্তু দীর্ঘ চেষ্টার পর বুঝতে পারে—আসল বিকাশ রূপান্তরে নয়, নিজেকে মেনে নেওয়াতেই।
পর্বের পরিচালক ইয়াং মু বলেন, ‘সবাই বড় কিছু হতে চাই। কিন্তু সবাই তা হতে পারি না। হয়তো আমরা আমাদের কল্পনার মানুষটি হয়ে উঠতে পারব না, কিন্তু আশপাশের এক–দুজন মানুষের হৃদয় ছুঁতে পারলেই তা যথেষ্ট।’
এই পর্বে প্রাচীন চীনা চিত্রকলা, নুও অপেরার মতো অমূল্য সাংস্কৃতিক উপাদান ব্যবহার করে দৃশ্যভাষাকে করা হয়েছে সমৃদ্ধ ও জীবন্ত।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য পর্ব ‘ম্যান ইন দ্য ইয়ার’। এটি ছিং রাজবংশের লেখক পু সোংলিংয়ের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লিয়াওচাই চিই’ থেকে অনুপ্রাণিত। তবে মূল গল্পের কাঠামো ভেঙে এখানে ভিন্ন এক ব্যাখ্যা হাজির করা হয়েছে। মানুষের অন্তর্গত ইচ্ছাকে দেখানো হয়েছে এক রহস্যময় অতিপ্রাকৃত সত্তা হিসেবে—যে বাস করে কানে।
এই পর্বে মানুষের ভেতরের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে সংঘাত, সংলাপ এবং শেষ পর্যন্ত সমঝোতার গল্প বলা হয়েছে। বার্তাটা স্পষ্ট—অন্তরের ইচ্ছাকে চুপ করিয়ে দেওয়াই সমাধান নয়, বরং তাকে বোঝাই আসল চ্যালেঞ্জ। আজকের দর্শকের কাছে এই দ্বন্দ্ব আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
এই পর্বের পরিচালক হু রুই বলেন, ‘আগের মৌসুমের তুলনায় এবার আমরা সিনেমাটিক অভিজ্ঞতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। চীনা অতিপ্রাকৃত কল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে একেবারে আলাদা সাউন্ড ডিজাইন করেছি। দর্শকদের হেডফোন পরে দেখার অনুরোধ করব—তাহলেই শব্দের সূক্ষ্মতা ধরা পড়বে।”
বাকি সাতটি পর্বেও রয়েছে নানা রকম পরীক্ষা–নিরীক্ষা। ‘দ্য হেডলেস ওয়ারিয়র’ অনুপ্রাণিত প্রাচীন গ্রন্থ ‘শান হাই চিং’ থেকে। ‘ম্যাজিক গার্লিক’ একটি হৃদয়ছোঁয়া পারিবারিক গল্প, যা প্রথম সিজনের একটি পর্বের ধারাবাহিকতায় এগিয়েছে। ‘সিয়াও সুয়ে’ পর্বে উলের স্টপ-মোশন অ্যানিমেশনে মা–ছেলের নীরব আবেগের গল্প বলা হয়েছে। আর ‘সেইফ জু’ অ্যানিমেশনে মকুমেন্টারি স্টাইল ব্যবহার করে চমক সৃষ্টি করেছেন নির্মাতা।
নতুন সিজনের প্রধান পরিচালক ছেন লিয়াওইয়ু বলেন, ‘এই সিরিজ আত্মঅন্বেষণের গল্প। মানুষ কীভাবে নিজেকে খুঁজে পায়, নিজের ভেতরের জগতের মুখোমুখি হয় এবং সেই পথ পেরিয়ে বড় হয়—সেটাই দেখাতে চেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, চীনা অ্যানিমেশনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য হলো—পুনরাবৃত্তি না করা। সেই চেতনাতেই পুরো দল কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মুক্তির পর ‘ইয়াও—চাইনিজ ফোকটেলস’ বিলিবিলিতে ৩৬ কোটি ভিউ এবং প্রায় ৮ লাখ ‘বুলেট কমেন্ট’ অর্জন করে। গত বছর সিরিজের একটি পর্ব থেকে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নোবডি’ বক্স অফিসে আয় করে প্রায় ১৭২ কোটি ইউয়ান।
ছেন বলেন, ‘চীনা অ্যানিমেশন এগোচ্ছে, আমরাও এগোচ্ছি। আমরা কোনো কিছুর প্রতিনিধি হতে চাই না—শুধু আন্তরিকভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে চাই।’
লোককথা তাই আর শুধু পুরনো গল্প নয়—ইয়াও দেখিয়ে দিচ্ছে, এ লোককথাই হতে পারে আধুনিক মানুষের সবচেয়ে জীবন্ত আয়না।
ফয়সল/নাহার
তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি
চীনা লোককথার ছন্দে আধুনিক স্পন্দন
Connect With Us:
Advertisement
Our Editorial Standards
We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.
Fact-Checked
This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.
Expert Review
Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.
Regularly Updated
We regularly update our content to ensure it remains current.
Unbiased Coverage
We strive to present balanced information.