শুক্রবার বেইজিংয়ের গণ-মহাভবনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বৈঠক করেছেন। সি চিন পিং বলেন, চীন ও কানাডা সম্পর্কের সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল উন্নয়ন দুই দেশের যৌথ স্বার্থ এবং বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য অনুকূল। দুই দেশের উচিত চীন-কানাডা নতুন ধরনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং এই সম্পর্ককে সুষ্ঠু, স্থিতিশীল ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া, যাতে দুই দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি কল্যাণ বয়ে আনা যায়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য সি চিন পিং চারটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন: প্রথমত, পারস্পরিক সম্মানের অংশীদার হওয়া।
চীন ও কানাডার জাতীয় পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। দ্বিতীয়ত, যৌথ উন্নয়নের অংশীদার হওয়া। চীন ও কানাডা সম্পর্কের মূল কথা হলো পারস্পরিক উপকারিতা ও 'উইন-উইন' বা জয়-জয় সহযোগিতা। চীনের উচ্চমানের উন্নয়ন ও উন্মুক্তকরণ চীন-কানাডা সহযোগিতার জন্য টেকসইভাবে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। তৃতীয়ত, পরস্পরের বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়া: দুই দেশের উচিত শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, ক্রীড়া ও বিভিন্ন মহলের বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করা।
চতুর্থত, পারস্পরিক সহযোগিতার অংশীদার হওয়া: চীন কানাডার সঙ্গে জাতিসংঘ, জি-২০, এপেক-সহ বিভিন্ন কাঠামোর আওতায় বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করতে এবং যৌথভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ইচ্ছুক। কার্নি বলেন, কানাডা চীনের সঙ্গে শক্তিশালী ও টেকসই নতুন ধরনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং জনগণের জন্য আরও বেশি কল্যাণ সৃষ্টি করতে ইচ্ছুক। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে চীনের অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে শক্তি যুগিয়েছে। কানাডা এক-চীন নীতি মেনে চলে। দেশটি চীনের সঙ্গে আর্থ-বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, অর্থ, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত 'বিশ্ব পরিচালনা উদ্যোগ' অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কানাডা চীনের সঙ্গে বহুপক্ষীয় সমন্বয় নিবিড় করতে, বহুপক্ষবাদ রক্ষা করতে এবং যৌথভাবে বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করতে ইচ্ছুক। (শুয়েই/তৌহিদ/জিনিয়া)