ছিংতাও বন্দরে ভ্যাকুয়ামভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মুরিং সিস্টেম চালু

ছিংতাও বন্দরে ভ্যাকুয়ামভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মুরিং সিস্টেম চালু
ফয়সল আবদুল্লাহ ২০২৬ সালের প্রথম দিনেই নতুন ইতিহাস গড়েছে চীনের উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বন্দর—ছিংতাও পোর্ট। এখানে চালু হয়েছে দেশের প্রথম ভ্যাকুয়াম-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নোঙর ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই একটি জাহাজ সম্পূর্ণ মানবহীনভাবে নোঙর করা সম্ভব হয়েছে। ১ জানুয়ারি ৩৬৬ মিটার লম্বা ও ১৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি কনটেইনার জাহাজ ধীরে ধীরে নতুন এই ব্যবস্থাসংবলিত জেটিতে ভিড়ে। প্রচলিত পদ্ধতির মতো এখানে দড়ি বেঁধে জাহাজ আটকাতে কোনো শ্রমিকের প্রয়োজন হয়নি। স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমটি নিজেই জাহাজ শনাক্ত করে, সঠিক অবস্থানে এনে ভ্যাকুয়াম সাকশন প্যাড জাহাজের গায়ে দৃঢ়ভাবে আটকে দেয়। পুরো নোঙর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে। এই ভ্যাকুয়াম-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নোঙর ব্যবস্থা শুধু নিরাপত্তাই বাড়ায়নি, উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে টার্মিনালের কার্যকারিতাও। ছিংতাও পোর্ট অটোমেটেড টার্মিনালের ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি বিভাগের ম্যানেজার লিউ ফাংছাও জানালেন, ‘ভ্যাকুয়াম-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নোঙর ব্যবস্থা সাকশন প্যাডের মাধ্যমে জাহাজের পাশে আটকে যায়। ১৩টি নোঙর ইউনিট মিলিয়ে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ২ হাজার ৬০০ কিলোনিউটন ধারণক্ষমতা তৈরি করতে পারে। এতে একটি জাহাজ নোঙর করতে যেখানে আগে ২০ থেকে ৩০ মিনিট লাগত, এখন তা কমে ৩০ সেকেন্ডেরও নিচে নেমে এসেছে, এবং জাহাজটি দৃঢ়ভাবে জেটিতে স্থির থাকে।’ উচ্চমাত্রায় সমন্বিত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ছিংতাও বন্দর ইতোমধ্যেই বিশ্বে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এখানে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় কোয়েই ক্রেন, উচ্চগতির রেল-মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং মানবহীন অটোমেটেড গাইডেড ভেহিক্যালস। এসব ব্যবস্থার কারণে স্বয়ংক্রিয় কনটেইনার টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং দক্ষতায় ছিংতাও পোর্ট ১৩তমবারের মতো বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। হুয়াংতাও কাস্টমসের পরিদর্শন বিভাগের উপপরিচালক ইয়ু থিং জানান, ‘পোর্টের লজিস্টিক রুটজুড়ে প্রাক-পরিদর্শন স্ক্যানিং যন্ত্র বসানো হয়েছে। প্রতিটি স্ক্যানিং প্রক্রিয়া মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সম্পন্ন হয়। কনটেইনার পরিবহনে কোনো বাধা তৈরি হয় না। উচ্চমাত্রার উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট পোর্ট গড়ে তোলা নিয়ে আগামী পাঁচ বছরে চীন যে লক্ষ্য রয়েছে, এটি তারই অংশ।‘ প্রযুক্তি, গতি আর নিরাপত্তার মেলবন্ধনে ছিংতাও বন্দর এখন নিছকই একটি বন্দর নয়—বরং চীনের স্মার্ট পোর্ট উন্নয়নের এক চমৎকার উদাহরণ। সূত্র: সিএমজি

Rate This Article

How would you rate this article?

ED Desk

ED Desk

Experience in write about 5 years.

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.