এপ্রিল ২: “আমরা প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডেটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছি এবং প্রথমে ‘ডেটা রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স’ পদ্ধতি চালু করেছি, যা ডেটা উপাদানগুলোকে নিরাপদে প্রবাহিত হতে এবং মূল্য মুক্ত করতে সক্ষম করে। শহরব্যাপী ২১০টিরও বেশি বড় মডেল জনসাধারণের সেবা প্রদান করছে, বড় ভাষার মডেল, মাল্টিমোডাল বড় মডেল এবং ইন্টেলিজেন্ট এজেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী অ্যাপ্লিকেশন গড়ে উঠছে...”
৩১শে মার্চ, জেনেভায় জাতিসংঘের সদর দপ্তর প্যালাই দে নাস্যোঁ-তে ২০২৬ গ্লোবাল ডিজিটাল ইকোনমি কনফারেন্সের প্রথম আন্তর্জাতিক প্রচার কার্যক্রম—ডিজিটাল ইকোনমি কোঅপারেশন অ্যান্ড ইনোভেশন ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। বেইজিং মিউনিসিপ্যাল কমিশন অফ ইকোনমি অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজির ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট ‘যৌথভাবে ডিজিটল বান্ধব শহর নির্মাণ করা: বেইজিং ইনোভেশন প্র্যাকটিস অ্যান্ড গ্লোবাল রেসপনসিবিলিট’ শীর্ষক মূল বক্তৃতায় ডিজিটাল অর্থনীতির মডেল সিটি গঠনের ‘বেইজিং প্রস্তাব’ উপস্থাপন করে।
বেইজিং মিউনিসিপ্যাল কমিশন অফ ইকোনমি অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজির ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট জানায়,“যখন আমরা দেশের প্রথম ডিজিটাল ইকোনমি এন্টারপ্রাইজ বিদেশে ইনোভেশন সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করেছি, যা ২৯টি দেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে এবং ৪টি আন্তর্জাতিক সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করেছে, তখন আমরা ‘বেইজিং প্রস্তাব’-এর শ্রেষ্ঠত্ব নয় বরং সহযোগিতা নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে চেয়েছিলাম। শুধুমাত্র ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করেই ডিজিটাল লভ্যাংশ সত্যিকার অর্থে বিশ্বব্যাপী পৌঁছাতে পারে।”
এই ফোরামটি গ্লোবাল ডিজিটাল ইকোনমি সিটি অ্যালায়েন্স এবং গ্লোবাল ডিজিটাল ইকোনমি কনফারেন্সের আয়োজক কমিটি যৌথভাবে আয়োজন করে। ‘ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স অসীম, বন্ধুত্বপূর্ণ জয়-জয়’ থিম নিয়ে অনুষ্ঠিত এই ফোরামে বিশ্বের ১৫০ জনেরও বেশি রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষাবিদ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি অংশ নেন, যেখানে ডিজিটাল অর্থনীতির অগ্রগামী প্রবণতা ও সহযোগিতার পথ নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
গ্লোবাল ডিজিটাল ইকোনমি সিটি অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান ফ্রান্সিস গ্যারি বেইজিংয়ের গ্লোবাল ডিজিটাল ইকোনমি মডেল শহর গঠনের প্রচেষ্টার উচ্চ প্রশংসা করেন এবং বলেন, জোট সহযোগিতা ও সহ-সৃষ্টির নীতি মেনে চলবে, নিশ্চিত করবে যে ডিজিটাল লভ্যাংশ আরও বেশি শহর ও ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়।
ফোরামে একাধিক বিনিময় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় এবং ‘বেইজিং প্রস্তাব’ প্রদর্শনী অঞ্চল চালু করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবনী অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রি ইকোসিস্টেম উন্নয়ন, শহর-স্তরের অ্যাপ্লিকেশন দৃশ্যপট নির্মাণ, ডিজিটাল ট্রেড নিয়ম অন্বেষণ, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের ডিজিটাল রূপান্তর সহায়তা... বেইজিংয়ের অসংখ্য ডিজিটাল অর্থনীতির মডেল প্রতিষ্ঠান সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে উৎসাহব্যঞ্জক মতবিনিময় করে এবং বহু বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘বেইজিং প্রস্তাব’ এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে চীনের অভ্যাসের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখায়।
ডেলয়েট লিগ্যাল সুইজারল্যান্ডের পার্টনার পল দে ব্রাসি সংবাদদাতাকে বলেন, “আমি দেখতে পাচ্ছি চীন, সুইজারল্যান্ড এবং বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে এই সহযোগিতা খুবই আকর্ষণীয়... মানুষ শেয়ার করতে আগ্রহী এবং প্রকৃত ‘ডিজিটাল করিডোর‘ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
’মাইন্ড স্টর্ম ২৩’ কোম্পানির ম্যানেজিং পার্টনার দিলদার মালেক সম্প্রতি সাংহাই, সি’আন, বেইজিং, শেনজেন এবং কুয়াংচৌ সফর করেছেন। তিনি বলেন, “চীন ডিজিটালাইজেশনে অসাধারণ কাজ করেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও ব্যাপক।”
‘২০২৫ সালে বেইজিংয়ের ডিজিটাল অর্থনীতি শহরের জিডিপির ৪৬.৪%’—এই তথ্যটি গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে ক্লাউডমোটিভ কোম্পানির ব্যবসায়িক উপদেষ্টা রামি লিনকোমোক। তিনি বলেন, “আমি সত্যিই পছন্দ করি যে, কীভাবে মেগাসিটি আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে চীন অসাধারণ নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছে।”
সুইস কোম্পানি সেকারনের প্রতিনিধি তিশিয়া টোমেট একসময় চীনে পড়াশোনা করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, “চীন ইতিমধ্যেই এই বাজারে (ডিজিটাল অর্থনীতি) নেতৃত্বের অবস্থানে রয়েছে। যে কোম্পানিগুলো ইউরোপ ও চীনের মধ্যে ‘সেতু’ নির্মাণ করতে পারে, তাদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।”
সূত্র: সিএমজি