বাংলাদেশ শিক্ষাবোর্ডের প্রায় ৬ লক্ষ শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিষয়টি প্রমাণসহ সামনে এনেছে সাইবার গবেষণা ও মনিটরিং সংশ্লিষ্ট গ্রুপ। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই ডাটাবেসে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড, ছবি, স্বাক্ষর, আইপি ঠিকানা সহ একাধিক সংবেদনশীল তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আইটি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশিত হলে পরিচয় চুরি, জালিয়াতি, অ্যাকাউন্ট দখলসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় ব্যর্থতার দায় কে নেবে? রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্তসাপেক্ষ।
উল্লেখ্য, দেশে আইটি খাতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও সরকারি পর্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে আন্তর্জাতিক মানের সাইবার সিকিউরিটি প্রটোকল অনুসরণ করা হয় না—এমন অভিযোগ নতুন নয়।
এই তথ্যফাঁসের বিষয়টি সামনে এনেছে ‘Systemadminbd’ নামের একটি সাইবার গবেষণা ও মনিটরিং সংশ্লিষ্ট গ্রুপ। অতীতে এই গ্রুপটি ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান Zee Media–এর সিস্টেমে সংঘটিত একটি সাইবার আক্রমণের ঘটনা প্রকাশ্যে আনার মাধ্যমে আলোচনায় আসে।
শিক্ষাবোর্ডের তথ্য ফাঁসের বিষয়টির দ্বেড় মাস অতিবাহিত হলেও, কোনো মূলধারার মিডিয়াতে বিষয়টি ফোকাসে আসে নি।
বিষয়টি দ্রুত স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষাবোর্ডসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। “ডিজিটাল বাংলাদেশ” বাস্তবায়নের পথে তথ্য সুরক্ষা ও নাগরিকের ব্যক্তিগত ডাটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।