১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে এনইআইআর বা ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার । অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ, চুরি হওয়া ফোন বন্ধ এবং মোবাইল বাজারের বিশৃঙ্খলা দূর করতেই এই সিস্টেম চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কিন্তু এটা চালুর পরই দেখা দিলো বিপত্তি। প্রথম দিনই অসংখ্য মোবাইল ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, তাদের এনআইডির অধীনে অস্বাভাবিক সংখ্যক ভূতুরে মোবাইল হ্যান্ডসেট তাদের অজান্তেই নিবন্ধিত হয়েছে। অর্থাৎ নিবন্ধিত এসব মোবাইল সেট তাদের নয়। এমনকি তারা যেসব মোবাইল সেট ব্যবহার করছেন, সেগুলো এই সিস্টেমে তাদের এনআইডির অধীনে দেখাচ্ছে না। তাহলে তাদের সেটগুলো কাদের এনআইডির অধীনে, এ নিয়ে প্রশ্ন করছেন ব্যবহারকারীরা।
শাহ পরান নামে একজন মোবাইল সেট ব্যবহারকারী ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, 'আমার মোবাইল নাম্বার আর NID এর শেষ ৪ ডিজিট দিয়ে একাউন্ট খুলে লগইন করে দেখলাম মোট ১৫৮ টা ফোন রেজিস্টার করা আছে।'
মাসুম বিল্লাহ নামে আরেকজন হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারী পোস্টে লিখেছেন, 'আমার NID দিয়ে মোট ৫৩টি মোবাইল সেট রেজিস্টেশন করা দেখাচ্ছে সিস্টেমে। এর মধ্যে ডিসেম্বরেই (২০২৫) ৪২টি হ্যান্ডসেট রেজিস্টেশন হয়েছে দেখাচ্ছে। অথচ আমি সর্বশেষ দেশ থেকে মোবাইল কিনেছিলাম ৪ বছর আগে । রাস্ট্রের গুরুত্বপূর্ন ডাটাবেইজ যাদের কাছে ছিল, তারা এগুলো বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছে? তাদের ওপর গজব নাজিল হোক।'
সুমনা কায়েস নামে একজন ফেসবুেক লিখেছেন, 'আমার নামে ১৬টা ফোন (IME) রেজিস্টার্ড হয়েছে ২০২৫ সালে। অথচ ২০২৫ সালে আমি মাত্র একটা মোবাইল কিনছিলাম, সেটাও দেশের বাইরে থেকে আনা গত জানুয়ারিতে। এর বাইরে গত ৫ বছরে আমি আর কোনো ফোন সেট কিনিনি।'
মো. ইদ্রিস নামে একজন মন্তব্য করেছেন, 'আমার NID তে ৭০টা IMEI দেখাচ্ছে, অথচ আমার বর্তমান ডিভাইস ৩টা। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ৭০টা IMEI-এর মধ্য আমার উপরোক্ত ৩টা ফোনের একটারও IMEI নাই । আমার NID-এর সাথে আমারই IMEI রেজিস্টার্ড হয়নি। তাহলে আমার ফোন কার NID দিয়ে রেজিস্টার্ড হলো?'
উল্লেখ্য, National Equipment Identity Register অর্থাৎ NEIR সিস্টেম নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছে সরকার। কিন্তু এরপরও কেন এমন ভুল, কেন অদক্ষ ডেভেলপার দিয়ে এটা করা হয়েছে, ব্যবহারকারীর অজান্তেই কিভাবে তাদের এনআইডিতে অন্য অজানা সেট নিবন্ধিত হলো, এমন অনেক প্রশ্ন করে পোস্ট ও মন্তব্য করছেন ব্যবহারকারীরা।
এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ২ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, 'অনেকের NID'তে সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে এই নিয়ে কাজ করছে। ধীরে ধীরে হিস্টোরিক ডেটা ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ করে শুধুমাত্র বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখানো হবে। এজন্য আমাদের কিছুটা সময় লাগবে।'
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পোস্ট পুরো পোস্ট (২-১-২০২৬ ) নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-
Table of Contents
কাজ করছে না সিস্টেম, যেকোনো IMEI নাম্বার দিলেই দেখাচ্ছে, 'মোবাইলটি নিবন্ধিত'
এনইআইআর চালু করার কারণ
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর মধ্য দিয়ে দেশের নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ হ্যান্ডসেটগুলো বন্ধ করা হবে।
এর আগে মুঠোফোন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা মুঠোফোনের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। গতকাল বুধবার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।
বিটিআরসি বলছে, কারিগরিভাবে এনইআইআর মূলত আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেনটিটি)—এই ৩টি বিষয় যাচাই করে নেটওয়ার্ক সচল রাখে। এটি কোনো কল রেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না কিংবা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না।
দেশের সকল মোবাইলফোন ব্যবসায়ী কর্তৃক ইতোমধ্যে আমদানিকৃত মোবাইল হ্যান্ডসেটসমূহের মধ্যে অবিক্রিত/স্থিত সকল মোবাইল হ্যান্ডসেটসমূহের IMEI ও সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি NEIR সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখিত হ্যান্ডসেটসমূহের IMEI ও সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি NEIR সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য গত ১৫/১২/২০২৫ তারিখ পর্যন্ত neir@btrc.gov.bd ই-মেইল ঠিকানায় মাইক্রোসফট এক্সেল ফাইল (.xlsx) ফরম্যাট অনুযায়ী তথ্য প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীগণকে অনুরোধ জানিয়েছিল বিটিআরসি।