অ্যাকাউন্টের ব্যক্তি মারা গেলে ব্যাংকের নমিনি হলেই কি টাকা তোলা যায়, এমন প্রশ্ন অনেকের। আসলে নমিনি শুধু জিম্মাদার—হাইকোর্ট থেকে এমন রায় আসার পর আপিল হয়। এটি এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। এখনো শুনানি হয়নি। অর্থাৎ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এ অবস্থায় ব্যাংক আইন অনুযায়ী, ব্যাংক অর্থ বুঝিয়ে দেবে নমিনিকে। কিন্তু নমিনি যদি তা উত্তরাধিকারীকে না দেন, সে ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। নিহত কালামের উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, যদি নমিনি পাওনা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করেন।
নমিনির পরিচয় ও উত্তরাধিকারের অধিকার
নমিনি হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁকে অর্থ গ্রহণ করার জন্য আমানতকারী মনোনীত করেন। আমানতকারীর মৃত্যু হলে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন নমিনি।
তবে নমিনি একজন প্রতিনিধির ভূমিকা পাওয়া ব্যক্তি। তিনি যদি নিজে উত্তরাধিকারী হন, তাহলে আইন অনুযায়ী তিনি তাঁর প্রাপ্য অর্থ পাবেন। আর যদি তিনি উত্তরাধিকারী না হন, তাহলে তাঁর ভূমিকা হবে—সেই অর্থ মারা যাওয়া আমানতকারীর উত্তরাধিকারীর কাছে হস্তান্তর করা।
তবে বিষয়টি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় ব্যাংক কোম্পানি আইনে গিয়ে। উত্তরাধিকার কে, তা জানে না ব্যাংক। ব্যাংকের কাছে আমানতকারীর উল্লেখ করে যাওয়া নমিনিই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (সংশোধিত)-এর ১০৩ ধারা অনুযায়ী, আমানতকারী মারা গেলে তাঁর অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত টাকা মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি) পাবেন। ব্যাংক সেই অর্থ নমিনিকে পরিশোধ করবে। নমিনি নাবালক হলে আমানতকারী আগেই একজন ব্যক্তিকে সেই অর্থ গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।
এই ধারা অনুযায়ী, নমিনি অর্থ হাতে পাওয়ার যোগ্য হলেও কোনো ওয়ারিশ সেই টাকার মালিকানা দাবি করলে তাঁকে আদালতে যেতে হবে।
অর্থাৎ ব্যাংক মারা যাওয়া আমানতকারীর অর্থ বুঝিয়ে দেবে নমিনিকে। নমিনি উত্তরাধিকারী না হলে, তিনি উত্তরাধিকারীকে অর্থ বুঝিয়ে না দিলে সে ক্ষেত্রে ব্যাংকের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
নমিনির অধিকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকি প্রথম আলোকে বলেন, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় আমানতকারীকে নমিনি ঠিক করতে হয়। আমানতকারী এক বা একাধিক নমিনি নির্ধারণ করেন। কোন নমিনি কত শতাংশ পাবেন, তা–ও ঠিক করতে হয় আমানতাকারীকে। সেই অর্থ দেওয়ার জন্য ব্যাংক নমিনি বা উত্তরাধিকারী কাউকেই খুঁজে বের করবে না। তবে নমিনি এসে ব্যাংকের কাছে দাবি করলে, সব তথ্যপ্রমাণ ঠিক থাকলে নিয়ম অনুযায়ী নমিনিকে ব্যাংক অর্থ বুঝিয়ে দেবে।
নমিনির অনুপস্থিতিতে ব্যাংক মারা যাওয়া আমানতকারীর সম্পদ কীভাবে হস্তান্তর করবে, এ বিষয়ে শাহরিয়ার সিদ্দিকি বলেন, কোনো কারণে যদি নমিনি মারা যান বা নিখোঁজ থাকেন, সে ক্ষেত্রে আদালত যেভাবে উত্তরাধিকারের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের নির্দেশ দেবেন, ব্যাংক তা অনুসরণ করবে। মোটকথা, ব্যাংকের সঙ্গে উত্তরাধিকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
কোনো অ্যাকাউন্টের নমিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে ব্যাংক তাঁকে টাকা দেবে না বলে উল্লেখ করেন শাহরিয়ার সিদ্দিকি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে নমিনিকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
অন্যদিকে ২০১৬ সালে সঞ্চয়পত্রের নমিনি নিয়ে একটি রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়, সঞ্চয়পত্রের হিসাবধারী মারা গেলে টাকা নমিনির পরিবর্তে উত্তরাধিকারী পাবেন।