ফয়সল আবদুল্লাহ
বিশ্বজুড়ে গ্রীষ্মের দাবদাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘কুলিং ইকোনমি’ বা শীতলতা-নির্ভর পণ্যের বাজারও বাড়ছে। এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে চীনা পণ্য নির্মাতারা।
কুলিং ম্যাট, বাঁশের পাটি থেকে শুরু করে স্মার্ট এয়ার কন্ডিশনার এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক পাখার মতো পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চীনের চেচিয়াং প্রদেশের থাইচৌ শহরে কুলিং ম্যাট রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে। একসময় ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও ঘাসের তৈরি এই পণ্য এখন আধুনিক উপকরণ ও উন্নত বস্ত্রপ্রযুক্তির মাধ্যমে হালকা, নরম ও তাপ-নিয়ন্ত্রণ সক্ষম পণ্যে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে এসব পণ্যের চাহিদা বেশি। এসব দেশে দিনের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
থাইচৌভিত্তিক সিংসিন ম্যাটস ইন্ডাস্ট্রির মহাব্যবস্থাপক লিন ব্যাংছিউ জানান, ভিয়েতনাম বর্তমানে তাদের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। স্প্যানডেক্স উপাদানে তৈরি ম্যাটগুলো আর্দ্রতা দ্রুত শোষণ ও শুকিয়ে ফেলতে পারে, ফলে দীর্ঘ সময় শীতল অনুভূতি বজায় থাকে।
এদিকে কুয়াংতোং প্রদেশেও শীতলীকরণ পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে চিয়াংমেন শহর থেকে ৭০০ কোটি ইউয়ানেরও বেশি মূল্যের গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই ছিল এয়ার কন্ডিশনার, বৈদ্যুতিক পাখা ও রেফ্রিজারেটর।
হাইসেন্স গ্রুপ কুয়াংতোং সম্প্রতি ভিয়েতনামে ৪৯০টি স্মার্ট ইনভার্টার এয়ার কন্ডিশনার রপ্তানি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, পণ্যগুলো পরিবেশগত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং বিভিন্ন দেশের ভোল্টেজ ও আবহাওয়ার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির চলতি বছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি ৩০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিয়াংমেনভিত্তিক কেন্নেডে ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিংও বিদেশি বাজারে সাফল্য পাচ্ছে। তাদের এলইডি আলো ও ব্লুটুথ স্পিকারযুক্ত বহুমুখী আউটডোর পাখা লাতিন আমেরিকার ক্যাম্পিংপ্রেমীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বছরের প্রথম চার মাসেই পণ্যটির রপ্তানি মূল্য ১০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে চিয়াংমেন তেসিন ইলেকট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স ইউরোপের জন্য জ্বালানি-সাশ্রয়ী সিলিং ও টাওয়ার ফ্যান উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে প্রতিষ্ঠানটির বৈদ্যুতিক পাখা রপ্তানি প্রায় ৫০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩.৭ শতাংশ বেশি।
সিএমজি