বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, ভাষা, সংস্কৃতি ও গবেষণা সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।
শনিবার চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট শুধু চীনা ভাষা শেখার একটি কেন্দ্র নয়; এটি দুই দেশের মানুষ, সংস্কৃতি ও ভাবনার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে জ্ঞান বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপাচার্য জানান, চীনের ইয়ুননান মিনজু ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে চীনের সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক শিক্ষা ফাউন্ডেশন থেকে এর অনুমোদন পাওয়া যায়। একই বছরের নভেম্বরে বেইজিংয়ে বিশ্ব চীনা ভাষা সম্মেলনের সময় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
তিনি বলেন, নতুন এই ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে চীনা ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং চীনা শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত সুযোগ তৈরির পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার জন্য নতুন পথ উন্মুক্ত হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আরও বলেন, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীও চীনা ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সমকালীন চীন সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি নতুন ভাষা শেখা শুধু শব্দ ও ব্যাকরণ আয়ত্ত করার বিষয় নয়; এর মাধ্যমে একটি সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া ও ভাষাগত দক্ষতা বিশ্ব নাগরিক হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট তরুণ প্রজন্মের জন্য একাডেমিক বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা, পর্যটন, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগের অংশীদার হতে পেরে গর্বিত এবং ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: সিএমজি