Sunday, June 14, 2026
Live
খবর
Verified
3 min read

ব্যক্তিগত স্বর্ণ বিক্রিতে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে

মাহফুজ রহমান
মাহফুজ রহমান ডেস্ক সম্পাদক
Published: Updated:
ব্যক্তিগত স্বর্ণ বিক্রিতে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিমালিকানাধীন সোনার অলংকারকে এখন ব্যক্তিগত সম্পদের বদলে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করছে। এতে স্বর্ণ বিক্রির আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা মূলধনি মুনাফা কর দিতে হবে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আদলে বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা। এতে ফাঁকি কমবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

আজ রোববার রাজধানীর পল্টনে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে অর্থ বিল নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার মালা। সভায় উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের কর, শুল্ক ও ভ্যাট নীতি বিভাগের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

সেমিনারে সোনার অলংকারের মতো ব্যক্তিগত সম্পদকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কর পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেন এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের প্রথম সচিব জাফর ইমাম। তিনি বলেন, ইউরোপের অনেক দেশে এই পদ্ধতি আছে। আন্তর্জাতিক পদ্ধতি মেনেই এটা করা হয়েছে। অনেকেই রিটার্নে সোনা বা সোনার অলংকার দেখান। তবে মূল্য অজানা উল্লেখ করা হয়। এতে অনেক ফাঁকি থাকে বলে জানান তিনি।

স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ব্যক্তি আয়করে প্রথমেই ১০ শতাংশ না রেখে ৫ শতাংশ রাখা প্রয়োজন ছিল। এতে প্রথম দিকে করতাদার ওপর চাপ কমত। ভ্যাটের তথ্য রাখতে ২৪টি কলাম পূরণ করতে হয়। এটা কমানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে কোনো কর বাড়ানো হয়নি। বরং এখন থেকে এটা সমন্বয় করা হবে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রিম কর ফেরত দিতে হবে। আমরা এটা ফেরত দেব।’

কালোটাকা সাদা করা প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কালোটাকা সাদা করার কোনো বিধান বাজেটে আনা হয়নি। এমন কোনো চিন্তাই ছিল না। যদিও আবাসন ব্যবসায়ীদের দিক থেকে চাপ ছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমেই বলা হয়েছে, কালোটাকার কোনো ব্যাপার থাকবে না।

রাজস্ব আসবে যেভাবে

বাজেটে দেওয়া অনুযায়ী সরকারের ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব কীভাবে আদায় হবে—সেই প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘অর্থনীতির চাকা নতুন করে ঘোরানোর জন্য এবার ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা বাড়লে অবশ্যই রাজস্ব আদায় বাড়বে। আর কর ফাঁকি বন্ধ করতে পারলেও অনেক রাজস্ব আদায় করা যাবে। এখন সবকিছু অনলাইনে করা হচ্ছে। ফলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। এখন ঠিকমতো এডিট সিলেক্ট করা গেলে আদায় অনেক বাড়বে।’

খুচরা পর্যায় থেকে হাজারে দুই টাকা করে আদায় থেকেও একটা ভালো অংশ সংগ্রহ হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি জানান, করের পরিমাণ কম হওয়ায় পণ্যের দামের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না।

এ ছাড়া সিগারেট খাতে কর ফাঁকি কমিয়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর আদায়ের চেয়ে অন্যায্য কর দূরীকরণে এবার বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। পণ্য রপ্তানি বাড়াতে বন্ড সুবিধা ও ভ্যাট নিবন্ধন সহজ করার কথা জানান তিনি।

এনবিআরের শুল্কনীতি বিভাগের কর্মকর্তা তারেক হাসান বলেন, যেসব পণ্য আমদানিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে সেগুলোর প্রতি নজর রাখা হবে।

সাত দিনের পরিবর্তে অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যাট নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান ভ্যাট নীতি বিভাগের কর্মকর্তারা মো. বদরুজ্জামান মুন্সী। তিনি বলেন, প্রতি মাসের বদলে তিন মাস পরপর রিটার্ন দেওয়া যাবে।

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন। তিনি মূলত শিক্ষাবিষয়ক এক্সপার্ট। তিনি লেখাপড়া, চাকরি বা ক্যারিয়ার, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত লেখালেকি ও সংবাদ সম্পাদনা করেন।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.