গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি লেয়ার মুরগির পোল্ট্রি ফার্মের পানির ট্যাংকে বিষ প্রয়োগে সাড়ে তিনশ মুরগী হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।গত মঙ্গলবার (২ জুন) উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মো: ইকবাল হোসেনের ফার্মে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আটটার দিকে ফার্মের মুরগীর বিষ্ঠা পরিষ্কারের পর খাবার এবং পানি দেয়া হয়। একপর্যায়ে ট্যাংক থেকে সরবরাহকৃত পানিতে বিষের গন্ধ পান ফার্মে কর্মরত শ্রমিকরা। ফার্মে থাকা ৯ হাজার মুরগির মধ্যে বিষ মিশ্রিত পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ৩০টি মুরগি মারা যায়। এছাড়াও অবশিষ্ট মুরগিগুলোর অবস্থাও ছিলো আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনার পর খামারী ইকবাল হোসেন সকাল ১০ টার দিকে কয়েকটি মৃত মুরগি নিয়ে উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মুরগীগুলো বিষ প্রয়োগে মারা গেছে বলে জানান।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত আরো একশো ৬০টি মুরগি মারা যায়। এছাড়াও দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত আরো একশো ৭০ টি মুরগী মারা যায়। এদিকে মারা যাওয়া মুরগিগুলোতে তীব্র গন্ধ হওয়ার কারণে খামারে কর্মরত শ্রমিকরা মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলে।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো: ইকবাল হোসেন বলেন, আমার ফার্মের সাড়ে তিনশো মুরগী যারা পানিতে বিষ দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এতে আমার তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। আশাকরি প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা: মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খামারী ইকবাল হোসেনের নিয়ে আসা মৃত মুরগি এবং পানি প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানা গেছে পানিতে বিষ প্রয়োগের কারণেই মুরগি মারা গেছে। এছাড়াও তিনি পানির ট্যাংকে বিষের বোতল পেয়েছেন। যা তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন।
তিনি আরো জানান, আমরা তাকে থানায় জিডি করতে বলেছি। এছাড়াও আমরা পুনরায় খামার পরিদর্শনে যাবো। বাকি মুরগিগুলো যেন সুস্থ থাকে সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগের পর তদন্তের দায়িত্বে দেয়া এস আই তারিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, পোল্ট্রি খামারী ইকবাল হোসেন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অফিশিয়াল কাজের ব্যস্ততার কারণে ঘটনাস্থলে তদন্তে যেতে পারিনি। তবে সকালে আমি সরেজমিন তদন্তে আসবো।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাসির আহমদ জানান, এখনো আমি অভিযোগের কপি হাতে পাইনি এবং এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।