গতকাল (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক হামলা চালায়, যার ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।
বিশ্বব্যাপী নেটিজেনদের মধ্যে পরিচালিত সিজিটিএন-এর একটি জরিপে দেখা গেছে যে, ৯৩.৯ শতাংশ উত্তরদাতা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁরা এটিকে ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং ভূখণ্ডের অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি রোধে অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে সংঘটিত এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সমাজকে গভীরভাবে হতবাক করেছে।
জরিপে ৮৬.৮ শতাংশ উত্তরদাতা ইরানের সাথে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের এই বর্ধিত সামরিক পদক্ষেপকে "মার্কিন আধিপত্যের প্রকাশ" হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তাঁরা মনে করেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিগুলোকে উপেক্ষা করে এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ সমাধানের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে। আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধানের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ কখনোই সঠিক উপায় হতে পারে না; এটি কেবল ঘৃণা ও সংঘাতকেই উসকে দেয়। জরিপের ৭৯.৮ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বিশ্বাস করেন যে, অন্যান্য দেশের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ব্যবহার কখনোই মূল সমস্যার সমাধান করতে পারে না।
এর বিপরীতে, এটি কেবল আলোচনার পথকে সংকুচিত করে এবং দ্বন্দ্ব ও সংঘাতকে আরও তীব্র করে তোলে। এই সামরিক অভিযানের ফলে অসংখ্য হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা ও সরকার মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে এবং আরও উত্তেজনা এড়াতে সব পক্ষকে পুনরায় সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে ইতোমধ্যেই ভঙ্গুর মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার চরম অবনতি ঘটবে।
তারা বিশ্বাস করেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির এই উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক নয়। অধিকন্তু, ৯৪.৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে, "মার্কিন আধিপত্য" দ্বারা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের রীতিনীতির প্রতি এই ক্রমবর্ধমান অবজ্ঞা বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থাকে দুর্বল করে দেবে এবং বিশ্বব্যাপী কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। জরিপটি সিজিটিএন-এর ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি ও রুশ ভাষার প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছিল। এতে মোট ২৩,৪৬৪জন নেটিজেন অংশগ্রহণ করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
জিনিয়া/তৌহিদ/তুহিনা