এপ্রিল ১৮, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: প্যারিসের মঞ্চে তখন বিশ্বের সেরা সব স্ট্রিট ড্যান্সারদের ভিড়। হাজারো দর্শকের চোখ আটকে আছে ১৩ বছরের এক চীনা কিশোরের ওপর। নাম তার লি ইয়ংছিউ। মিউজিকের তালে যখন সে নাচ শুরু করল, তখন শুধু ব্রেকড্যান্স নয়, তার শরীরী মুদ্রায় ফুটে উঠল প্রাচীন চীনা রণকলা ‘কুং-ফু’। গত ৮ মার্চ, ২০২৬-এ প্যারিসের বিখ্যাত ‘জাস্ট ডেবুট’ প্রতিযোগিতার জুনিয়র ড্যান্স ট্যুরে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়েছে এই বিস্ময় বালক।
স্ট্রিট ড্যান্সের জগতে ‘জাস্ট ডেবুট’ অত্যন্ত সম্মানজনক একটি ইভেন্ট। ফাইনাল রাউন্ডে লি যখন তার বিশেষ রুটিনটি পরিবেশন করছিল, তখন বিচারক থেকে শুরু করে দর্শক সবাই রীতিমতো অবাক হয়ে গিয়েছিল। লির বিশেষত্ব ছিল তার সৃজনশীলতা, সে ব্রেকড্যান্সের হার্ডকোর মুভমেন্টের সাথে কুং-ফুর শৈল্পিক কৌশলগুলোকে এমনভাবে মিশিয়ে দিয়েছিল, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তার এই অনন্য পারফরম্যান্স তাকে এনে দেয় বিশ্বজয়ের মুকুট।
লির এই যাত্রা কিন্তু সহজ ছিল না। মাত্র আট বছর বয়সে ব্রেকড্যান্সের প্রেমে পড়ে সে। ২০২২ সালে সে ছোংছিংয়ের স্থানীয় ব্রেকড্যান্স দলে যোগ দেয়। সেখানেই মূলত লির প্রতিভাকে সঠিক ছাঁচে গড়ার কাজ শুরু হয়। ছোংছিং টিমের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞ কোচদের সাহচর্য তাকে বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে রয়েছে লির অদম্য জেদ। সপ্তাহের ৫ থেকে ৬ দিনই সে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। দীর্ঘ অনুশীলনের পর শরীর যখন অবসন্ন হয়ে আসে, তখনও লি দমে যায় না। বিস্ময়কর বিষয় হলো, নাচের এই বিশাল চাপের মাঝেও সে তার পড়াশোনাকে অবহেলা করেনি। সময় ভাগ করে নিয়ে সে নিয়মিত স্কুলের পাঠও শেষ করে।
লি ইয়ংছিউয়ের এই জয় কেবল তার একার নয়, বরং চীনের হাজার হাজার তরুণ নৃত্যশিল্পীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। ছোংছিংয়ের অলিগলি থেকে উঠে আসা এই কিশোর প্রমাণ করেছে যে, কঠোর পরিশ্রম আর নতুনত্বের মেলবন্ধন থাকলে বিশ্বের যেকোনো মঞ্চ জয় করা সম্ভব। লির এই কুং-ফু স্টাইল ব্রেকড্যান্স এখন বিশ্বজুড়ে স্ট্রিট ড্যান্সারদের কাছে এক নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাহার/ ফয়সল
তথ্য ও ছবি-সিনহুয়া