Thursday, April 16, 2026
Live

চার দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে নিবিড় বৈঠক: সি চিন পিং কেন বারবার “কৌশলগত সংকল্প” শব্দটির উল্লেখ করছেন?

চার দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে নিবিড় বৈঠক: সি চিন পিং কেন বারবার “কৌশলগত সংকল্প” শব্দটির উল্লেখ করছেন?

এপ্রিল ১৬: ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বেইজিংয়ের মহা-গণভবনে পর্যায়ক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রপ্রধান তো লামের সাথে বৈঠক ও আলোচনা সম্পন্ন করেছেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সংকট নিরসনে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করার সময় সি চিন পিং এই বৈঠকগুলোতে বারবার "কৌশলগত সংকল্প" শব্দটির উল্লেখ করেছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করে।

১৫ এপ্রিল সকালে, ভিয়েতনামের সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রপ্রধান তো লামের সম্মানে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আয়োজিত একগুচ্ছ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি মহা- গণভবনে নিবিড়ভাবে পরিচালিত হয়। সি চিন পিং একবার বলেছিলেন যে, চীন ও ভিয়েতনামের "দুই দল ও দুই দেশের নেতাদের উচিত আত্মীয়দের মতো ঘনঘন যাতায়াত ও যোগাযোগ করা।"

তো লাম ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন এবং ৯ তারিখেই তার চীন সফরের খবর ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এটিই তার প্রথম চীন সফর এবং ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম কংগ্রেসের পর সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেও এটিই তার প্রথম চীন সফর।

১৫ তারিখের আলোচনার শুরুতে সি চিন পিং বলেন, "ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আপনার এই চীন সফর চীন-ভিয়েতনাম সম্পর্ক উন্নয়নে আপনার উচ্চতর গুরুত্বারোপকে প্রতিফলিত করে।" তো লাম সফরে একটি অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর ৯ জন সদস্য এবং প্রায় ৪০ জন পূর্ণ মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন; যা ভিয়েতনামের বিচার বিভাগ, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য, কৃষি ও পরিবেশ এবং নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে কভার করে।

চলতি বছর চীনের "১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা" শুরুর বছর এবং ভিয়েতনামের জন্য এটি ১৪তম কংগ্রেসের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের শুরুর বছর। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চীনে সফর এবং প্রতিনিধিদলের উচ্চমান ও বিশাল সংখ্যা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা গভীর করতে ভিয়েতনামের তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির স্থলে ৩০০ জনেরও বেশি চীনা ও ভিয়েতনামী তরুণের উপস্থিতি বিশেষভাবে সবার নজর কেড়েছে। গত বছর ভিয়েতনাম সফরের সময় সি চিন পিং এবং তো লাম যৌথভাবে "রেড স্টাডি ট্যুর প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। এক বছরে এক হাজারেরও বেশি ভিয়েতনামী তরুণ পূর্বপুরুষদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে বেইজিং, সাংহাই, কুয়াংসি, শায়ানসি এবং ছুংছিংয়ে ভ্রমণ করেন। তারা চীন-ভিয়েতনামের বন্ধুত্বের "লাল জিনঅনুসন্ধান করেছেন এবং চীনা-শৈলী আধুনিকায়নের বৈচিত্র্যময় রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন।

১৫ তারিখ, দুই দেশের শীর্ষ নেতারা মহা- গণভবনে এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী দুই দেশের তরুণ প্রতিনিধিদের সাথে মিলিত হন। সি চিন পিং চীন ও ভিয়েতনামের তরুণদের প্রতি তিনটি আশা ব্যক্ত করেছেন: একে অপরের পাশে থাকা, যাতে চীন-ভিয়েতনামের "কমরেড ও ভাই" সুলভ গভীর বন্ধুত্ব তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল হয়; দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া, তারুণ্যের প্রাণশক্তি ও সৃজনশীলতা দিয়ে উদ্ভাবন, উন্মুক্তকরণ ও সহযোগিতার জোয়ার সৃষ্টি করা; এবং বিশ্বকে হৃদয়ে ধারণ করে মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ার অগ্রণী বাহিনী হওয়া।

চীন-ভিয়েতনাম শীর্ষ বৈঠকের ফলাফল অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যেখানে একটি নতুন অভিব্যক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সি চিন পিং আলোচনায় প্রস্তাব করেন: "কৌশলগতভাবে আরও উচ্চতর স্তরের চীন-ভিয়েতনামের অভিন্ন কল্যাণের সমাজ নির্মাণ ত্বরান্বিত করা।"

২০২৩ সালে সি চিন পিংয়ের ভিয়েতনাম সফরের সময় উভয় পক্ষ "কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চীন-ভিয়েতনাম অভিন্ন কল্যাণের সমাজ" গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিল। ২০২৫ সালে পুনরায় সফরের সময় উভয় পক্ষ এটি "ত্বরান্বিত করতে" সম্মত হয়। এখন "নির্মাণ" থেকে "ত্বরান্বিত নির্মাণ" এবং শেষে "উচ্চতর স্তর"—এটি এমন এক পথ যা একবার সঠিকভাবে বেছে নিলে তাতে অবিচল থাকা এবং সময়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তারই বহিঃপ্রকাশ।

চীন-ভিয়েতনাম সম্পর্কের পরিকল্পনা করার সময় সি চিন পিং বারবার "চীন-ভিয়েতনাম সম্পর্কের বিশেষ কৌশলগত তাৎপর্য অনুধাবন করার" ওপর জোর দিয়েছেন। ১৫ তারিখের আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন যে, কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব হলো সমাজতন্ত্রের সবচেয়ে মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং সবচেয়ে বড় সুবিধা। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং কমিউনিস্ট পার্টির শাসন ক্ষমতা রক্ষা করা চীন ও ভিয়েতনামের দুই দলের জন্য সবচেয়ে বড় অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, উভয়পক্ষকেই উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সতর্কতা এবং শক্তিশালী কৌশলগত সংকল্প বজায় রাখতে হবে; সর্বদা নিজের পথ ও ব্যবস্থার প্রতি আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে এবং সংস্কারের সঠিক দিক ও আদর্শ বজায় রাখতে হবে।

এই "কৌশলগত সংকল্প" অন্য তিনটি কূটনৈতিক কার্যক্রমেও ফুটে উঠেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ৪ বছরে ৪ বার চীন সফর করেছেন। গত বছর স্পেনের রাজা ও প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি চীন ও স্পেনের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ-পর্যায়ের যোগাযোগ। এটি চীনের প্রতি স্পেনের নীতির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতাকে তুলে ধরে।

১৪ তারিখ সকালে প্রধানমন্ত্রী সানচেজের সাথে বৈঠকের সময় সি চিন পিং উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির ও বিশৃঙ্খল হওয়া সত্ত্বেও চীন ও স্পেনের সম্পর্ক সর্বদা স্থিতিশীলভাবে বিকশিত হয়েছে এবং কৌশলগত সংকল্প সম্পন্ন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেছে; এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হলো সাধারণ স্বার্থের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রধানমন্ত্রী সানচেজও তার বক্তব্যে "কৌশলগত সংকল্পের" ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি কৌশলগত সংকল্প সম্পন্ন স্পেন-চীন অংশীদারিত্বের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, "চীনের মতোই আমরাও একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যদ্বাণীযোগ্য দেশ।"

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির যুবরাজ খালেদের সাথে সাক্ষাতের সময় সি চিন পিং সম্পর্কের "স্থিতিশীলতার" কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চীন-আরব আমিরাত সম্পর্কের উন্নয়ন উভয়পক্ষের দৃঢ় ঐকমত্য এবং তা দুই দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে। চীন আরব আমিরাতের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে আরও শক্তিশালী, সহনশীল এবং প্রাণবন্ত ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে সাক্ষাতের সময় সি চিন পিং উল্লেখ করেন যে, অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে চীন-রাশিয়া সম্পর্কের স্থিতিশীলতা এবং নিশ্চয়তা বিশেষভাবে মূল্যবান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "উভয়পক্ষকেই কৌশলগত সংকল্প বজায় রাখতে হবে, একে অপরকে বিশ্বাস ও সমর্থন করতে হবে এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।"

চলতি বছর চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০তম বার্ষিকী এবং "চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি" স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী। এই দীর্ঘ যাত্রায় "হাতে হাত মিলিয়ে চলা" আসলে চীন-রাশিয়া কৌশলগত সংকল্পেরই এক জীবন্ত প্রতিফলন।

মানুষের মন সেখানেই সায় দেয় যেখানে সত্য ও ন্যায় থাকে। এই অস্থির পৃথিবীতে চীনের কূটনৈতিক দর্শন ক্রমশ ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে। ইতিহাসের সঠিক পথে এবং মানব সভ্যতার অগ্রগতির পক্ষে দাঁড়িয়ে একটি দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠ চীন বিশ্বের দেশগুলোর সাথে মিলে মানবজাতির অভিন্ন ভাগ্যের অংশীদারিত্ব গড়ার নতুন এক অধ্যায় লিখে যাবে।

সূত্র: সিএমজি

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন।

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.