চীনের বার্ষিক জাতীয় গণ-কংগ্রেস এবং চীনা গণ-রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলন (যা "দুই অধিবেশন" নামে পরিচিত) শুরু হতে চলেছে। এই বছরের জাতীয় গণ-কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া রূপরেখা পর্যালোচনা করা হবে এবং চীনা গণ রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের জাতীয় কমিটির বার্ষিক অধিবেশনেও খসড়াটির ওপর ব্যাপক আলোচনা ও পরামর্শ প্রদান করা হবে।
বেশ কয়েকটি বিদেশি সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি উল্লেখ করেছে যে, চীনের জাতীয় গণ-কংগ্রেস এবং চীনা গণ-রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের সময় গৃহীত আলোচনা ও সিদ্ধান্তগুলো আগামী পাঁচ বছরে চীনের নীতিগত দিকনির্দেশনা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। 'নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ'-এর ১ মার্চের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬-২০৩০ সাল মেয়াদের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরে চীনের উন্নয়নের জন্য একটি নির্দেশিকা দলিল; যার মূলে রয়েছে "আত্মনির্ভরতা এবং আত্ম-শক্তিশালীকরণ"।
বিশেষ করে চীন সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মতো উচ্চ-প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশের ওপর মনোনিবেশ করবে এবং এর অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলের উন্নতিকে উৎসাহিত করবে। একই সাথে, চীন এসব ক্ষেত্রে মূল প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নকে শক্তিশালী করবে এবং একটি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত জাতি হওয়ার প্রচেষ্টা চালাবে। গত এক বছর ধরে, চীন তার প্রাতিষ্ঠানিক উন্মুক্তকরণ প্রসারিত করেছে এবং কর্মী বিনিময় ও ভিসা নীতিগুলোকে আরও সময়োপযোগী করেছে।
"চীনে কেনাকাটা" এবং "চীনে ভ্রমণ"-এর মতো বিষয়গুলো বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চীনের জাতীয় গণ-কংগ্রেস এবং চীনা গণ-রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনে প্রকাশিত নতুন সংস্কার ব্যবস্থা ও উন্মুক্তকরণ নীতি এবং বৃহৎ দেশগুলোর কূটনীতি বিদেশি গণমাধ্যমের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। 'ডেলভয় কাজাখস্তান' এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে যে—ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ এবং একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গঠনের পটভূমিতে চীনে এই বছরের দুই অধিবেশনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
জিনিয়া/তৌহিদ/তুহিনা