ডিসেম্বর ৩, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জাপানের পাঠানো চিঠিতে ‘ভুল দৃষ্টিভঙ্গি ও ভণ্ডামিপূর্ণ মিথ্যা’ রয়েছে। মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন চিয়ান।
লিন বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ান ইস্যুতে যে ভুল মন্তব্য করেছেন, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী শক্তিগুলোর ফলাফলের প্রতি চ্যালেঞ্জ এবং যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার স্পষ্ট লঙ্ঘন। তার মতে, এ বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবকে পাঠানো চিঠি ছিল ‘সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়।’
লিন জানান, জাপানের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাইওয়ান প্রসঙ্গে জাপানের ‘অবিচল অবস্থান’ আছে। কিন্তু সেই অবস্থানটি কী—জাপান এখনও চীনের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে সেই ব্যাখ্যা দেয়নি।
লিন প্রশ্ন রাখেন, ‘দুই দেশের চারটি রাজনৈতিক নথিতে তাইওয়ান প্রশ্নে জাপানের যে অবস্থান লিপিবদ্ধ আছে—জাপান কি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সেটার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবে?’
মুখপাত্র বলেন, জাপান দাবি করে তাদের প্রতিরক্ষানীতি ‘পুরোপুরি প্রতিরক্ষামুখী’। কিন্তু জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ‘তাইওয়ান সংকটকে’ জাপানের ‘অস্তিত্ব-ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির’ সঙ্গে যুক্ত করে চীনের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত এক দেশের বর্তমান নেতা কীভাবে বিজয়ী দেশকে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেন—এ প্রশ্নও তোলেন লিন চিয়ান।
লিন অভিযোগ করেন, জাপান অন্য দেশের প্রতিরক্ষা উন্নয়ন ও ‘জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা’র কথা বলে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। অথচ জাপান নিজেই বিগত বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা বাজেট টানা ১৩ বছর বাড়িয়েছে, সমষ্টিগত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, অস্ত্র রপ্তানির নিয়ম পরিবর্তন করেছে, শত্রু ঘাঁটিতে হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং কায়রো ঘোষণা ও পটসডাম প্রজ্ঞাপনের বিধানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে একতরফা পরিবর্তনের চেষ্টা, সামরিক সক্ষমতার বিস্তার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্বেগ অগ্রাহ্য করার কাজ জাপানই করে আসছে। এসব কারণেই চীন জাতিসংঘ মহাসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান জানিয়ে দিয়েছিল।
এ বছর চীনের জাপান বিরোধী যুদ্ধ ও বিশ্ব ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুদ্ধের বিজয়ের ৮০ বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃতি ও যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে চীন।
লিন পরিশেষে বলেন, ‘আমরা আবারও জাপানকে অনুরোধ জানাই—নিজেদের ভুল কাজের জন্য আত্মসমালোচনা করুন, পরাজিত দেশ হিসেবে নিজেদের দায় শোধ করুন, চীন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন।’
ফয়সল/জেনিফার
তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া
জাতিসংঘ মহাসচিবকে লেখা জাপানের চিঠি ‘ভণ্ডামিতে পূর্ণ’: চীন
Connect With Us:
Advertisement
Our Editorial Standards
We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.
Fact-Checked
This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.
Expert Review
Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.
Regularly Updated
We regularly update our content to ensure it remains current.
Unbiased Coverage
We strive to present balanced information.