নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো “২০২৬ চাইনিজ কালচার নাইট”

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো “২০২৬ চাইনিজ কালচার নাইট”

সোমবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে “২০২৬ চাইনিজ কালচার নাইট” উদযাপনের মধ্য দিয়ে। “ব্লেসড হর্সেস ওয়েলকাম স্প্রিং” শীর্ষক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা ও ‘রমজানের স্বাদে পারস্পরিক বোঝাপড়া” থিমে রন্ধনশৈলীর বিনিময়ের মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চীনা সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রম ও সম্মিলিত ইফতার-নৈশভোজে অংশগ্রহণকারীরা চীন ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

সহ-আয়োজক ছিলো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ-চীন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, চীনা দূতাবাসের মিনিস্টার কাউন্সেলর ড. লিউ ইয়ুইয়িন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীসহ শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। শতাধিক অতিথির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। এ সময় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান বলেন, চীনা নববর্ষ, লণ্ঠন উৎসব ও রমজানের মিলন এই অনুষ্ঠানকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা নববর্ষ উদযাপন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য চীনা সংস্কৃতি প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করার একটি প্রাণবন্ত সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও গভীরতর হয়। চীনা দূতাবাসের মিনিস্টার কাউন্সেলর ড. লিউ ইয়ুইয়িন ২০২৬ সালের চাইনিজ কালচার নাইটকে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পরিবার, আশা এবং বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধার ভাগীদার মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশের সাথে স্থায়ী বন্ধুত্ব গড়ে তোলার জন্য চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে চীনের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্র বাংলাদেশের তরুণদের বৈশ্বিক সুযোগের জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চীনা নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক বিনিময় কার্যক্রম ভবিষ্যতেও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পাঁচটি সাংস্কৃতিক জোন—লণ্ঠন ধাঁধা ও কুইজ, স্প্রিং কাপলেট চিত্রাঙ্কন, মাটির ঘোড়া শিল্পকর্ম, হানফু পারিবারিক ফটো জোন এবং ঐতিহ্যবাহী শুভকামনা গেমস। পাশাপাশি রমজান উপলক্ষে আয়োজিত ইফতারে চীনা হটপট, ডাম্পলিং ও থাংইউয়ানের সঙ্গে পরিবেশিত হয় বাঙালি খাবার। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে জানান আয়োজকরা।

ঐশী/জেনিফার

Rate This Article

How would you rate this article?

এম রহমান

এম রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

More than 3 years experience on reporting in various fields.

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.