বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের নীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। দেশটিতে চলমান দুই অধিবেশন এ বছর আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চীনের শীর্ষ আইনসভার এই অধিবেশনগুলোতে শুধু আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনাই নির্ধারণ করা হচ্ছে না, বরং এমন একটি পরিকল্পনা অনুমোদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে যা দশকের শেষ পর্যন্ত দেশটির উন্নয়নপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই অধিবেশনগুলো আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিয়ম অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে। আইনপ্রণেতাদের পর্যালোচনায় থাকা খসড়া পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০৩৫ সালের মধ্যে মৌলিক আধুনিকীকরণের লক্ষ্য অর্জনের রূপরেখা তুলে ধরেছে। এই পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে চীন কীভাবে উন্নয়নের পথে এগোবে তা উল্লেখ করা হয়েছে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের ওপর জোর।
আইনসভা অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, শক্তি বৃদ্ধি পেলেও চীন কখনো আধিপত্য বিস্তার করবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বকে কেবল কয়েকটি বড় শক্তি দ্বারা পরিচালিত হওয়ার ধারণায় চীন বিশ্বাস করে না। বিশ্লেষকদের মতে, শান্তির প্রতি চীনের এই অগ্রাধিকার অনেকাংশেই দেশটির দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। হাজার বছরের ইতিহাসে চীন বহু সময় বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলোর একটি হলেও তার প্রভাব বিস্তার সাধারণত যুদ্ধ বা উপনিবেশ স্থাপনের মাধ্যমে নয়, বরং বাণিজ্য, ধারণা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে হয়েছে।
জেনিফার/শুভ তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া